নেতায় নেতায় কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বেহাল দশা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব আর কোন্দলে জর্জরিত মূলদলসহ প্রায় প্রতিটি অংগ সংগঠন। যে কারণে পুরোপুরি হতাশ তৃনমূলের সকল নেতাকর্মী। তৃর্নমূল নেতাকর্মীদের দাবি বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা সরকার পতন আন্দোলনের ডাক আসলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। নেতায় নেতায় কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনমুখি হলেও নেতাদের কোন্দলের কারণে মাঠে নামতে আগ্রহী হচ্ছেনা। যে কারণে নারায়ণগঞ্জে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির সমর্থক থাকা সত্বেও আন্দোলন সংগ্রামে তেমন কোন ভ’মিকা পালনসহ বিগত নির্বাচনে অনেক প্রার্থীই জামানত হারিয়েছে। এজন্য সাধারণ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দায়ি করে বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে পদ পদবী ভোগ করবেন তারা আর আমরা সরকার বিরোধী আন্দোলনে নামতে গিয়ে পুলিশের হামলার শিকার হবো এমন রাজনীতি না করাই ভাল। যে কারণে অনেকেই বিএনপি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তেমন কোন ভ’মিকা পালন করতে না পারায় মাঠ পর্যায়ের সমর্থকরা এখন হতাশায় ভ’গছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তৃনমূলের একাধিক যুবদল ও ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করে বলেন, ভুল নেতৃত্বের হাতে জেলা বিএনপি তুলে দিয়ে প্রথম ভুলটি করেছে দলীয় হাইকমান্ড। যে কারনে বিগত দুই বছরে দলের জন্য এই কমিটি কোনো কিছুই করতে পারেনি। তাছাড়া এতদিনেও তারা জেলা শহরের প্রান কেন্দ্রে একটি দলীয় কার্যালয় স্থাপনসহ দলের অন্যান্য অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এক ছাতার নিচে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা আরও বলেন, এই কমিটির সভাপতি কাজী মনির পুরোপুরি একজন ব্যবসায়ী মানুষ। যে কারণে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনীতিতে সময় দিতে পারেন না। তবে পদ ধরে রাখার স্বার্থে দলের জন্য যতটুকু সময় দেন তার বেশিরভাগই নিজ ঘরের কোণে রূপগঞ্জে দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ পুরোপুরিভাবে রাজনীতিবিদ হলেও এতবড় পদ পাওয়ার পর কেমন যেন পাল্টে গেছেন। দলীয় স্বার্থের চাইতে পদ বানিজ্যটা যেন তার কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে। এছাড়া ইনিও সভাপতির পথ অনুসরন করে নিজ ঘরের কোণে সিদ্ধিরগঞ্জে দলীয় রাজনীতিটাকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। আর এসব কারনে কমিটির দায়িত্বশীল একটি বিরাট অংশ বেশ কিছুদিন ধরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিধায় দলটি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নির্ধারনেও দলীয় হাইকমান্ড অনেক বড় ভুল করেছে দাবি তৃনমূলের। তাদের মতে এ কমিটির সভাপতি সাবেক সাংসদ আবুল কালাম কখনোই কর্মী বান্ধব নেতা ছিলেন না, এখনও নেই। শুধুমাত্র দলীয় জোয়ারের কারনে বিগত দিনে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মহানগরের মত এতবড় একটি সংগঠনের গুরুদায়িত্ব পালন করার মত কোনো যোগ্যতা এই নেতার মধ্যে নাই। তবে একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হলেও কোনোভাবেই তিনি কর্মী বান্ধব নেতা নন। যার ফলে এদের দ্বারা দলীয় ফলাফল এখানও শূন্যই বলা চলে। তবে নবগঠতি জেলা ও মহানগর যুবদল নিয়ে তৃনমূলের খুব একটা অভিযোগ না থাকলেও রয়েছে জেলা ছাত্রদল ও ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে। তাদের মতে, যেকোন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রাণ শক্তি হচ্ছে ছাত্রদল। অথচ সদ্য বিদায়ী রমজানে তাদেরই আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে তুমূল হট্টগোলের মধ্য দিয়ে নিজেদের বিভেদ যেভাবে তারা ফুটিয়ে তুলেছে, তা এখন আর কারো অজানা নয়। আর এ বিভেদের মহানয়ক কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান রনি। হট্টগোলের মধ্য দিয়ে ওই ইফতার পার্টি বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তা-ই প্রমাণ করেছেন সংগঠনটির একটি বড় অংশ। তাছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজীব সহ প্রায় ডজনখানেক যুগ্ম সম্পাদক ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেন। সুতরাং এতই পরিস্কার বোঝা যায় সংগঠনটির বর্তমান পরিস্থিতি। অপরদিকে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটি প্রসঙ্গে তৃণমূলের অভিযোগ, অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের মত অথর্ব এবং সরকার দলীয় এজন্টকে সভাপতি ও রাজনীতির বাইরে থাকা নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে সদস্য সচিব করে যে কমিটি করা হয়েছে, তা বিগত কমিটির সভাপতি শাহ্ আলমের ছায়া কমিটি। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একান্ত ইচ্ছাতে এমন একটি বাজে কমিটি দেয়া হয়েছে। সুতরাং এই কমিটি দ্বারা দলের স্বার্থ হাসিলের চাইতে সরকারি দলের স্বার্থ রক্ষা হবার সম্ভাবনাই বেশী।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *