গডফাদারতন্ত্রের উপর ভর করে টিকে আছে সরকার: রাব্বি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, ‘এই সরকার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের অপকর্ম জায়েজ করতে চাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই মানুষ তার ন্যায্য দাবি ও সকল হত্যাকান্ডের বিচার আদায় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়ালেই সকল হত্যার বিচার হবে।’ গত শনিবার রাতে নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়নতনের কাছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন র্কমসূচিতে তিনি ওইসব কথা বলেন। রাব্বি বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত সম্পন্ন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার এগারোজনকে নিয়ে তাদের টর্চার সেলে কীভাবে হত্যা করেছে। ত্বকী হত্যার এক বছরের মাথায় তারা এসব কথা জানালো। একটা অভিযোগপত্র সরবরাহ করে সাংবাদিকদের তারা জানালো যে, এটি অচিরেই আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু এ ঘটনার তিনমাস পর জুন মাসের সাত তারিখ সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, ওসমান পরিবারের পাশে থাকবেন, দেখে রাখবেন। তখন থেকেই এই ত্বকী হত্যার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যখন ঘাতকের পক্ষ নেয়, খুনি পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়, সে দেশে বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু থাকে না। এবং সে দেশের জনগণ কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না।’ রফিউর রাব্বি বলেন, ‘যে দলটিকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বলা হয়ে থাকে সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই আমাদের স্বাধীন দেশে এই কাজটি করলেন। তিনি সমগ্র ব্যবস্থা ও জনগণকে অনিরাপদ করেছেন এবং গোটা দেশটাকে তিনি অনিশ্চিত একটা পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি তাদের আশা-ভরসা কিছুই নাই। যার ফলে এই সরকার জনগণের বিপক্ষে দাড়িয়ে তারা গডফাদার তন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এই সরকারের মানবিক চরিত্র নাই। গডফাদারতন্ত্রের উপর দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাচারী স্বৈরশাসনের উপর টিকে থাকতে চাচ্ছে এই সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই বাংলাদেশ আশা করি নাই। আমরা সেই বাংলাদেশ চেয়েছিÑ যে বাংলাদেশ জনগণের হবে, আপামর সমস্ত মানুষের হবে। সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে, জীবিকার নিরাপত্তা থাকবে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা থাকবে; এটাই আমরা চেয়েছি। কিন্তু সমস্ত কিছু ধূলিসাৎ করেছে এই সরকার।’ নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাড. জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দিপু, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, বাসদ নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব প্রমূখ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *