নিখোঁজ সেই নারীর লাশ উদ্ধার ঘাতক স্বামী জুনায়েদ গ্রেফতার

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নগরে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র অভিযানে সোনারগাঁয়ে ১৫’দিন ধরে নিখোঁজ হওয়া মিনু আক্তারের লাশ উদ্ধারসহ হত্যা মামলার আসামী জুনায়েদকে গ্রেফতার করে। গত শুক্রবার সকালে সোনারগাঁয়ের মুনজিলখোলা এলাকা থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক ল্যাফটেন্টে কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিন জানায়, সোনারগাঁ থানায় করা জিডির ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তার সাবেক স্বামী জুনায়েদকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মিনুর লাশ উদ্ধারে অভিযানে নামে র‌্যাব। গত ২১’মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন মিনু আক্তার। পরে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোথাও না পেয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম ২৩’মে সোনারগাঁও থানায় একটি জিডি করেন। এরপরই নিখোঁজ মিনুর সন্ধানে নামে পুলিশ। কিন্তু পুলিশ মিনুর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরে বিষয়টি র‌্যাব-১১ কে অবহিত করে তার পরিবার। পরে র‌্যাব জিডির তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২’টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে মিনুর সাবেক স্বামী জুনায়েদকে (৪৫)আটক করে। পরে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ জানায়, ২’হাজার ১৬’সালে মিনু আক্তারের সাথে তার দ্বিতীয় বিবাহ হয় এবং ২’হাজার ১৮’সালে তাদের মধ্যে ডিভোর্সও হয়ে যায়। এরপর থেকে জুনায়েদ তার প্রথম স্ত্রী রাতে তার কর্মক্ষেত্রে চলে গেলে জুনায়েদ মিনু আক্তারের সাথে একত্রে রাত্রি যাপন করতো। গত ২১’মে আনুমানিক রাত ৩’টায় জুনায়েদ মিনু আক্তারকে ফোন দিয়ে তার ভাড়া বাসায় আসতে বলে। এর কিছুক্ষন পরে মিনু আক্তার তার ভাড়াটিয়া বাসায় আসলে জুনায়েদ তাকে জোরপূর্বক ফুসলিয়ে ধর্ষন করে। পরবর্তীতে মিনু আক্তার ঈদের মধ্যে কাপড়ের ব্যবসা করার জন্য জুনায়েদের কাছে ২০’হাজার টাকা দাবি করলে জুনায়েদ মিনু আক্তারকে চড়-থাপ্পড় দেয় এবং এক পর্যায়ে জুনায়েদ ঘরের মধ্যে থাকা একটি বাশের লাঠি দিয়ে মিনুর মাথায় আঘাত করে। তখন মিনু ঘরের মেঝেতে পড়ে গেলে জুনায়েদ তার বুকের উপরে বসে গলা টিপে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর রাত ৪’টায় নিহত মিনুর বুকে রশি বেধে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘর থেকে টানতে টানতে বাড়ীর পাশের পুকুরের কচুরীপানার ভিতরে রেখে দিয়ে জুনায়েদ ঘরে ফিরে আসে। পরবর্তীতে জুনায়েদ সকালের দিকে তার কর্মস্থলে চলে যায়। এর পরে ২২’মে আনুমানিক রাত ১০’টায় বাড়ীর পাশের পুকুরের কচুরীপানা থেকে মিনু আক্তারের মরা দেহ উঠিয়ে রশি দিয়ে বেধে পাশের ড্রেজারে বালি ফেলার স্থানে নিয়ে গিয়ে সেখানে গর্ত করে তার লাশ গুম করে। পরবর্তীতে মিনুর খোঁজে তার মা জুনায়েদের বাসায় আসলে সে সু-কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে জুনায়েদের দেওয়া তথ্য মতে, সোনারগাঁও থানাধীন মুনজিলখোলা এলাকায় বিলের মাঝখানে উঁচু একটি জায়গা থেকে মিনুর পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *