ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামছে না বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে নির্বাচনী মাঠে আপাতত নামছেন না বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনগুলো। ইতোমধ্যে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতারা নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তাদের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে সেনাবাহিনী মোতায়েন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতারা কেউ কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না। ফতুল্লা থানা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, তাদের থানা কমিটির সভাপতি শাহআলম নিজেই মনোনয়ন না পেয়ে হতাশ। সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসও বাধ্যবাধকতার অজুহাতে দূরে আছেন। এসব কারণে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ব্যাকফুটে চলে গেছেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি অস্ত্র মামলায় কারাগারে। রনির কারণে ছাত্রদলও মাঠে নামতে নারাজ। থানা কমিটি না থাকায় কেউ সেখানে কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি ও জেলা কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলামও একেবারে নীরব। তিনিও এখন পর্যন্ত মাঠে নামেনি। আদৌও নামবে না সেটাও নিশ্চিত। জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ সংসদীয় এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা সহ প্রায় সকলেই নিশ্চিত ছিলেন এই আসনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপির প্রার্থীকেই ধানের শীষের প্রতীক দেয়া হবে। কিন্তু চূড়ান্ত বাছাই পর্বে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেন জমিয়ত উলামার মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মনির হোসাইন কাশেমী। গত ৮ ডিসেম্বর দিনভর নানা জল্পনার পর বিকেলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ধানের শীষের মনোনয়ন পত্র। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামা হলেও জমিয়ত নেতা মনির হোসাইন কাসেমীকে কেউই চিনতো না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরুতেও তার কোন আলাপ আলোচনাই ছিল না। সংসদীয় এলাকাতেও তার তেমন একটা পরিচিত নেই। অনেকের কাছেই তিনি অপরিচিত। তারপরেও তাকে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে পরামর্শ করে নাই। ফলে বিএনপির মনোনীত মনির হোসাইন কাসেমীকে মেনে নিতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে অনেক ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের অংশ হিসেবেই নির্বাচনী প্রচারণাতেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখা মিলছে না। যদিও কয়েক দফা সভা হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু বাস্তবে এর ফলাফল মিলছে না। সকলেই মুখে মুখে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মাসদাইরে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় যান মনির হোসাই কাসেমী। সেখানে তারা নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। কিন্তু এই আলোচনার ফলাফল শূণ্যেই থেকে যায়। এখন পর্যন্ত বিএনপির কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে মনির হোসাইন কাসেমীর সাথে দেখা যায়নি। ফলে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের নিজ দলের মনোনীত প্রার্থী পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ফেরা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মনোনীয় প্রার্থীদের তুলনায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় পিছিয়েই থেকে যাচ্ছেন মনির হোসাইন কাসেমী।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *