শহর ও শহরতলী যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিনত!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়ি জমা থাকা ময়লা ফেলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। টানা ৬দিন ধরে বাসা বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ না করায় এ দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তবে কবে নাগাদ এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন সেটাও জানেন না তারা। তাই অবিলম্বে বাসা বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য পরিচ্ছন্ন কর্মীদের নিয়োজিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল রোববার সকালে শহরের ১৩নং ওয়ার্ডের গলাচিপা এলাকায় বাড়ির পাশে রাস্তায় ময়লা ফেলছিলেন রমিজ উদ্দিন। পরে আশে পাশের দোকানদার এতো ক্ষোভ প্রকাশ করে রমিজ উদ্দিনের সমালোচনা করেন। এর প্রেক্ষিতে রমিজ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার থেকে ময়লা নিতে আসছে না পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। ঈদের ছুটি মনে করে তিনদিন ঘরে রাখা হয়। কিন্তু এরপর আরো তিনদিন চলে গেছে এখনও ময়লা নিতে আসছে না। ফলে ঘরের ভেতরে দুর্গন্ধ বের হয়ে গেছে। কেউ ঘরে থাকতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে ফেলতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে বেতন সম পরিমান বোনাস নিয়েছে যে ঈদের একদিন পর থেকে ময়লা নিতে আসবে। কিন্তু ঈদ চলে গেছে আজ ৬দিন হয়ে গেলো ময়লা নিতে আসে না। কেন ময়লা নিতে আসছে না সে বিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি। এমনকি ময়লা নিতে আসছেনা সেটাও বা কার কাছে অভিযোগ করবো জানি না। শহরের দেওভোগ এলাকার মুক্তি রানী দাস বলেন, ৬দিন ধরে ময়লা নিতে আসছে না। আমার স্বামী প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় নিয়ে ময়লা ফেলে দিয়ে আসছে। টাকা তো আমরা ঠিকই দেই কিন্তু এভাবে কষ্ট দেয়ার কোন মানে হয় না। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের চাষাঢ়া, খানপুর, ডনচেম্বার, আমলাপাড়া, নন্দিপাড়া, দেওভোগ, নিতাইগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকায় এক অবস্থা। ময়লা না নেওয়ায় রাস্তার পাশে ও ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলছে বাসিন্দারা। ফলে যেমন রাস্তায় দূর্গন্ধ বের হচ্ছে তেমনি ড্রেন পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। টানবাজার এলাকার রাজন সাহা বলেন, ঈদের জন্য তিনদিন ছুটিতে থাকবে। তাই ময়লা নিতে আসবে না বলে গিয়েছে। কিন্তু আরো তিনদিন চলে গেছে কিন্তু ময়লা নিতে আসেনি। তাই বাইরে থেকে লোক এনে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ময়লা ফেলতে হচ্ছে। এখন তারা ময়লা নিয়ে নদীতে না রাস্তায় ফেলছে সেটা জানি না। এদিকে শহরতলীতেও একই অবস্থা। ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা হতেও ময়লা নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে সেখানে দুর্ভোগ বাড়ছে বহুগুণে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ বলেন, বাসা বাড়ি থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ময়লা সংগ্রহ করে না। এরজন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া আছে। এবার ঈদের জন্য আমরা বলেছিলাম যেন বাসা বাড়িতে ময়লা সংগ্রহ বন্ধ না রাখে। তারপরও ঈদের জন্য বন্ধ ছিল। মূলত যারা ময়লা সংগ্রহ তারা শ্রমিক। ঈদের জন্য তারা ঠিক মতো ময়লা সংগ্রহ করছে না। তবে আজই আমরা এনজিওগুলোকে বলে দিবে যাতে আগামীকাল থেকে বাসা বাড়িতে ময়লা সংগ্রহ করে। আশা করছি সোমবারের মধ্যে সব এলাকার বাসা বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ শুরু করবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *