প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিতে উল্লসিত জামাত

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ত্বকী মঞ্চের কতিপয় নেতা বিশেষ মিশন নিয়ে নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে মাঠে নেমেছে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এনিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত নয় এমন নাগরিকদেরও বক্তব্য হঠাৎ করে একজন সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের কর্মচারী প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে জয়-বাংলা স্লোগান এমনকি সংসদ নিয়ে কটুক্তি করার পিছনে বিশেষ মহলের ইন্দন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। কারণ নারায়ণগঞ্জে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যা নিয়ে শহর উত্তপ্ত হতে পারে এমন বক্তব্য দেয়া শুরু হয়েছে। গত দুইদিন এনিয়ে সর্বত্র আলোচনা সমালোচনা চললেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এখনো এব্যাপারে গনমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ত্বকী মঞ্চের নেতাদের আপত্তিকর বক্তব্য নিয়ে এপর্যন্ত কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে বলে শুনা যায়নি। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবক্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পর ফুসে উঠতে শুরু করেছে। রহস্যজনক ভাবে ক্ষমতাসীন দলেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ ত্বকী মঞ্চের এসব কতিপয় বাম নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহায়তা করছেন বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এই বক্তব্যের পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মধ্যে অনেকটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এনিয়ে নারায়ণগঞ্জে বড় ধরণের অঘটন ঘটার আশংকা করছে নারায়ণগঞ্জবাসী। গত শনিবার রাতে আলী আহম্মদ চুনকা মিলনায়তনে ত্বকী মঞ্চের ব্যানারে হালিম আজাদ তার বক্তব্যে  প্রধানমন্ত্রী, জয়-বাংলা স্লোগান ও সংসদকে কটুক্তি করে আপত্তিকর বক্তব্য রাখে। সরকার নিয়ন্ত্রিত বাসসে কর্মরত থাকা অবস্থায় হালিম আজাদের এই বক্তব্য রবিবার থেকে শহরময় প্রচার হতে থাকে। সোমবার এবিষয়ে স্থানীয় দৈনিকগুলোতে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের পরও হালিম আজাদ কিংবা রফিউর রাব্বি এব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে কোন ব্যাখ্যা দেননি। যাতে প্রমাণিত হয় তারা অনেকটা নিশ্চিত হয়েই প্রধানমন্ত্রী, জয়-বাংলা স্লোগান ও সংসদ নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে তারা এখনো অনড়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্লোগান, সরকার প্রধান ও সংসদ নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য রাখলেও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অনতিবিলম্বে ত্বকী মঞ্চের নেতাদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন। হালিম আজাদের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্যসহ রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্যের নিন্দা জানাই। পাশাপাশি এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তিনি। মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, হালিম আজাদ গত ৮ জুন ত্বকী মঞ্চের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তারপরও তিনি কিভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে বহাল রয়েছেন কিংবা এখনো তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীর অভিযোগে কেন মামলা হয়নি তা আমার বোধগম্য নয়। তবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এধরণের বক্তব্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। একটি বিশেষ মহলের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য ত্বকী মঞ্চ নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। যা জামাত-শিবিরকে পরোক্ষ ভাবে সহায়তা করার সামিল। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম. সাইফুল্লাহ বাদল বলেন, হালিম আজাদের বক্তব্যে শুধুই আমিই না দলীয় নেতাকর্মী তেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ। তার এই বক্তব্যে নিন্দা জানাই। পাশাপাশি হালিম আজাদকে গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি। মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, কার ইন্দনে হালিম আজাদ এমন বক্তব্য দিয়েছেন তা জানতে হলেও আলিম আজাদকে গ্রেফতার করতে হবে। বিগত সময়েও ত্বকী মঞ্চের নেতারা বিভিন্ন উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছিল। এবার তারা বিশেষ মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, ত্বকী মঞ্চের ব্যানারে একটি মহল বার বার নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে আসছে। নারায়ণগঞ্জকে শান্ত রাখতে এখনই তাদের গ্রেফতার করা উচিত।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *