ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী নেতারা অবমূল্যায়িত

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দলের ক্রান্তি সময়ে রাজপথে থেকে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সেইসব ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছে। বিগত সময়ের ন্যায় গত একাদশ সংসদ নির্বাচনেও যেসকল নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করছে কঠোর পরিশ্রমসহ নিজেদের অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা করেছেন তারাই এখন দলের সুবিধাবাদি নেতাদের কাছে নির্যাতিত হচ্ছেন। টানা তৃতীয়বারের মত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় সুবিধাবাদি নেতাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটলেও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন ত্যাগী কর্মীরা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা সাংসদ শামীম ওসমান বলেছিলেন, সুবিধাবাদি নেতারা পোলাও-মাংস খাবে আর ত্যাগী নেতাকর্মীরা না খেয়ে থাকবে তা হবে না। ঐ বক্তব্যে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। কিন্তু শামীম ওসমানের সেই বক্তব্যের কয়েক মাস পাড় হয়ে গেলেও ত্যাগীদের মূল্যায়িত করার কোন প্রকার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি সুবিধাবাদিদের কারণে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি ঝিমিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে চাঙ্গা করতে হলে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলো ঢেলে সাজানো ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও নতুন করে সাজানো প্রয়োজন। দলের সার্বিক দিকগুলোকে বিবেচনায় রেখেই আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর কমিটির পাশাপাশি অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আর নতুন কমিটিতে সুবিধাবাদি নেতাদের বাদ নিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়িত করার দাবী উঠেছে। তবে মূল দল কিংবা অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ন পদ পেতে দলের নবীন প্রবীনদের নিয়েই গঠনের দাবী উঠেছে। সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ নেতাই ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিযোগীতায় নেমেছেন। বিশেষ করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয়ের পর প্রতিযোগীতা তীব্র হয়। অথচ যারা একাদশ সংসদ নির্বাচনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারাই এখন বিভিন্ন ভাবে বেকায়দায় রয়েছেন। বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ যখন নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পরে তখন দলের যে সমস্ত নেতা হাল ধরনে তাদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করা করা প্রয়োজন। বিশেষ শামীম ওসমান পন্থি নেতারা নানা নির্যাতন ও ভয়কে উপেক্ষা করে দলের নেতাকর্মীরাদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছিল সে সমস্ত নেতাদের মূল্যায়ন করা দরকার বলে মনে করছেন দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। এদিকে, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি থাকলেও রাজপথে তারা এখন নিস্ক্রীয়। রাজনৈতিক কোন কর্মসূচীতে রাজপথে দেখা যায় না তাদের। তবে কমিটিতে থাকা অনেক নেতাই ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিযোগীতায় নেমেছেন। কেউ কেউ রাজনীতিকে ব্যবসায়ে পরিনত করেছেন। আর এদের কারণেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *