ওসমান অনুসারিদের অসভ্য বললেন ত্বকীমঞ্চের সেই অনুসারিরা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ত্বকী হত্যাকা-ে সাংসদ শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানকে গ্রেফতারের দাবি করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ। তিনি সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব। গত ৮ জুন ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে শহরে আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে ওই দাবি করেন হালিম আজাদ। তার ওই বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক তোলাপাড় চলছে। ক্ষিপ্ত হয়েছে শামীম ওসমান অনুসারিরা। তারা হালিম আজাদের গ্রেফতার দাবি করেন। শুধু তাই নয়, কবি হালিম আজাদকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে এবং ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। তবে, ওসমান পরিবার অনুসারিদের এসব কথাকে একদমই পাত্তা দিচ্ছেন না কবি হালিম আজাদসহ সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের কারো কারো মতে, হালিম আজাদকে নিয়ে যারা মন্তব্য করছেন তারা ‘অসভ্য’। অপরদিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ করেছেন হালিম আজাদ এমন দাবি করেছিলেন ওসমান পরিবার অনুসারিরা। কিন্তু হালিম আজাদ স্পষ্টতই দাবি করেছেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। জয় বাংলা স্লোগানকে বুকে ধারণ করেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার অভিমত, যেই “জয় বাংলা’ স্লোগান শক্তি আর সাহস যুগিয়েছিলো তা নিয়ে কটাক্ষ করার প্রশ্নই আসে না।” এদিকে ওসমান অনুসারিদের বক্তব্য, দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিলো ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বির কাছে। এ প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না জানিয়ে বলেন, “খুনি, ছিনতাকারী, মাদক ব্যবসায়ী যারা ওরা কি বললো তাতে কিছু আসে যায় না।” জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে কোনো প্রকার কটুক্তি করেননি দাবি করে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সন্ত্রান নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ বলেন, “কোনো হত্যাকান্ডে খুনিদের বিচার চাইলে খুনিরা ওই ধরনের অসভ্য কথা বলে থাকে। নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা অসভ্য কথা বলে প্রতিবাদকারীদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করে থাকে। যারা অসভ্য তাদের মুখে এ ধরনের কথাই আসে। এই হত্যার বিচার যতদিন না পাবো ততদিন পর্যন্ত প্রতিবাদ করে যাবো। কারো বিষয় মন্তব্য করার আগে জানতে হবে, সে কি করে, তার অবস্থান কি, তার সম্মান কতটুকু।” নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, “একটা খুনের বিচার চাইবে এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, নৈতিক দায়িত্ব। আমি এখনও মনে করি, আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাস করছি। হালিম আজাদ একজন সাংবাদিক, আপনিও একজন সাংবাদিক, আপনারা চাইলে যে কোনো হত্যা মামলার বিচার চাইতে পারেন। সাগর-রুনির হত্যার বিচারও যে কেউ চাইতে পারে। এখানে আপনার সেই গণতান্ত্রিক অধিকারে কেউ যদি অগণতান্ত্রিক ভাবে প্রবেশ করে, আপনার সেই দাবিটাকে দাবিয়ে রাখতে চায়, সেখানে কতটুকু গণতান্ত্রিক অধিকার থাকে, সেটা কিন্তু ভাববার বিষয়।”
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, “এই হত্যার বিষয়টা উপরের মহল জানে তা আমি আলোচনায় বুঝতে পেরেছি। চাপ দিলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। হালিম আজাদ একজন সাংবাদিক, লেখক, সৎ ও নিষ্ঠাবান লোক। অথচ তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে সেটা দুঃখজনক। আজ এই হালিম আজাদের মত সৎ লোকেরা প্রতিবাদ করার কারনেই নারায়ণগঞ্জের কিছু পত্রিকা সত্য কথা প্রকাশ করে। আর বাকিগুলো তাদের পক্ষে। আপনারা এই ভাবে সৎ ও ন্যায়ের পথে লিখবেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবেন।” নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “হালিম আজাদ একজন কবি, সাহিত্যিক, লেখক, কলামিষ্ট, সাংবাদিক। আরেকজন আমার দলের সাংসদ তাই আমি এ বিষয় কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রসঙ্গত, ৮ জুন ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আয়োজনে মোম শিখা প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে হালাম আজাদ সাংসদ শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানকে ত্বকীয় হত্যায় জড়িত মন্তব্য করে তাদের গ্রেফতার দবি করেন। এরপরই ক্ষিপ্র হয়ে উঠেন ওসমান অনুসারিরা। যাদের মধ্যে জিল্লুর রহমান লিটন হালিম আজাদকে অসুস্থ, মাদকাসক্ত মন্তব্য করে তার ডোপ টেস্টেও দাবি জানান। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রবীণ ওই সাংবাদিকের গ্রেফতার দাবি করেন। একই প্রসঙ্গে অয়ন ওসমান নিজ ফেসবুক ওয়ালে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল হালিম আজাদকে তার বক্তব্য প্রত্যাহর করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। এছাড়া আরও অনেকেই হালিম আজাদকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। তার মধ্যে সম্প্রতি একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি থেকে জামিনে বের হয়ে আসা বিতর্কীত কাউন্সিলর আব্দুল করীম বাবু ওরফে ডিস বাবুও হালিম আজাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। যা অনেককেই হতবাক করেছে। তবে, হালিম আজাদকে নিয়ে যাচ্ছেতাই নানা মন্তব্য একটি পক্ষ করলেও এ নিয়ে একদমই নিশ্চুপ রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক নেতারা। তারা এ ব্যাপারে কোনো রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি এখনও।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *