সেই ধর্ষক সানি রিমান্ডে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বিয়ের প্রলোভনে চট্টগ্রাম থেকে ডেকে এনে তরুণীকে ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক রবিউল হাসান সানির পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন নাহারের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে লিংক রোড থেকে রবিউল হাসান সানিকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে। আদালতে শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান রিমান্ড মঞ্জুরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত সানি মুন্সিগঞ্জ জেলার ফুলতলা এলাকার নূরুল হক বেপারীর ছেলে। এবং ধর্ষণের শিকার তরুণী (২২) চট্টগ্রামের হাটহাজারি এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ জানায়, ৬ মাস আগে চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় রবিউল ইসলাম সানির সাথে। সেখানে তারা একে অপরের সাথে মুঠোফোন নম্বর আদান-প্রদান করেন। পরে দুজনের মধ্যে কথাবার্তা শুরু। এক পর্যায়ে তাদের মন দেওয়া-নেওয়া শুরু। এর সূত্র ধরে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসে। শুক্রবার তরুণী সাইনবোর্ড এলাকায় এসে নামলে সানি তাকে গ্রহণ করে। এখান থেকে তরুণীকে একটি বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে সানি। এ ঘটনায় আক্রান্ত তরুণী বাদী হয়ে রবিউল হাসান সানি ও তার মা এবং ভাইকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। তরুণীর দাবি, সানি তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে এদিন রাতে (শুক্রবার) এক প্রকার জোর করে তাকে চট্টগ্রামের গাড়িতে উঠিয়ে দিতে শহরের উকিল পাড়া শ্যামলী বাস কাউন্টারে নিয়ে আসে। সে বিয়ে ছাড়া চট্টগ্রামে ফিরবে না জানালে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিত-া হয়। এক পর্যায়ে লোকজন জড়ো হলে থানায় খবর দেওয়া হলে সাইফুল নামে একজন পুলিশ আসে এবং সানিকে নিয়ে থানায় যায়। পরে সে থানায় গিয়ে দেখে সানি নেই। থানায় সানির মা আছে। তার মা তরুণীকে নিতে চাইলে সে যেতে রাজি না হয়ে জানায়, সানিকে না পেলে আমি সুইসাইড করবো। এদিকে ১০ জুন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ধর্ষণ আক্রান্তের শিকার তরুণী ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, পুলিশের এসআই সাইফুল অভিযুক্ত রবিউল হাসান সানিকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। তরুণী তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘এসআই সাইফুল অভিযুক্ত রবিউল হাসান সানিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে সে থানায় গিয়ে দেখেন সানি নেই। পুলিশ সানিকে ছেড়ে দেয়।’ তবে, অভিযুক্ত এসআই সাইফুল ইসলাম অভিযুক্ত সানিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি অভিযুক্ত সানিকে ঘটনাস্থলে পাননি। পরে অভিযুক্তের মা থানায় আসছিলেন। কিন্তু তিনি কৌশলে খাবারের কথা বলে পালিয়ে যান। এছাড়াও তিনি এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, আমি ঘটনাস্থলে সানিকে পাইনি। তবে, ছেলেটির মাকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিলো বলে স্বীকার করেছেন তিনি। একই সাথে তিনি এই প্রতিবেদককে এ নিয়ে প্রতিবেদন না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে চা খাবেন বলে অনুরোধ রাখেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *