না’গঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে সরে যাচ্ছেন তারা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
যতই দিন গড়াচ্ছে ততই যেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভেদের পাল্লাটা ভারী হয়ে উঠছে। কমিটির প্রায় ডজনখানেক তারকা চিহ্নিত নেতা যেন এখন দল থেকে এখন অনেক দূরে অবস্থান করছেন। সর্বশেষ কয়েকটি কর্মসূচীতে এই নেতাদের অংশ নিতে দেখা যায়নি। যার ফলে বিভেদের চিত্রটা এখন অনেকটাই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সূত্র মতে, দল থেকে দূরে অবস্থান করাদের তালিকায় রয়েছেন-সহ সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, আব্দুল হাই রাজু, আজহারুল ইসলাম মান্নান, যুগ্ম সম্পাদক এম এ আকবর, লুৎফর রহমান খোকা, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন ও রুহুল আমিন সিকদার। এছাড়া এ তালিকায় আরো রয়েছেন কমিটির সদস্য পদে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী ও কর্মীবান্ধব নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। যদিও ২০১৭ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারী এই কমিটি অনুমোদন পাবার পর জেলার আদালত পাড়ার সামনে সরকার বিরোধী প্রথম কর্মসূচী এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কর্মসূচীতে উল্লেখযোগ সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। যা দেখে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ভবিষৎ নিয়ে আশান্বিত হয়েছিল। কিন্তু তাদের সে আশাকে মিথ্যায় রূপ দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচীগুলোতে দলটির পরিধি কমতে থাকে। যাকিনা এখন অনেকটা শুন্যের কোঠায় অবস্থান করছে। এর ফলে এই কমিটি দিয়ে দলের স্বার্থ সংশ্লি আর কিছুই আশা করতে পারছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তবে কেন তারা দল থেকে দূরে অবস্থান করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা পরিচয় প্রকাশ করে এই মুহুর্তে কিছুই বলতে চাইছেন না। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েজন নেতা দলের সভাপতি কাজী মনির ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে ‘নারায়ণগঞ্জ টুডে’ কে বলেন, যারা কমিটির সদস্যদের মূল্যায়ন করেন না বা সকলের সাথে সমন্বয় না করে যদি তারা দুজনেই সকল বিষয়ে সিদ্ধন্ত দেন তবে তাদের সাথে রাজনীতি করা বা না করা সমান কথা। যেকারনে গত কয়েকমাস ধরে আমরা একটু দূরে অবস্থান করছি। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, সুধরানোর জন্য আমরা তাদের সময় দিতেই এ ব্যপারে আমরা প্রকাশ্যে কিছু বলছিনা। তবে শীগ্রই তারা এ ব্যপারে না শুধরালে উপযুক্ত যে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন আমরা তা-ই নেব। তবে দল থেকে দূরে থাকা এসব নেতার কথায় স্পষ্ট যে, সরকার দলীয় এজেন্ট হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারী ও বির্তকিত অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে আহবায়ক ও নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে সদস্য সচীব করে ফতুল্লা থানা কমিটি ঘোষনা করাটাকে তারা মেনে নিতে পারছেন না। কারো সাথে আলাপ আলোচনা না করেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে এমন কাজ করেছেন। প্রসঙ্গত, বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অভিমান করে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাজনীতির মাঠে ফাঁকিবাজ খ্যাতি অর্জনকারী শাহ্ আলম। যেদিন তিনি পদত্যাগ করেছেন তার পরদিনই তড়িঘড়ি করে ফতুল্লা থানা বিএনপির ওই আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। মুলত এর পর থেকেই উপরোক্ত নেতারা দলের বাইরে অবস্থান নিতে শুরু করেন এবং দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকেন। সর্বশেষ সদ্য বিদায়ী রমজানে জেলা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও তাদেও কাউকে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *