এবার বিএনপি জামাতমুক্ত বন্দর উপজেলা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
অবশেষে বিএনপি জামাতের রাহুমুক্ত হলো বন্দর উপজেলা পরিষদ। এখানে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন জনপ্রতিনিধিই ছিলেন বিএনপি ও জামাতের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। এর আগে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল টানা দুইবার এখানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গত নির্বাচনে এখানে জামায়াত ইসলামীর নেতা সাইফুল ইসলাম ও বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। এবার সেই বিএনপি জামাতের হাত থেকে নেতৃত্ব ফিরে পেয়েছে সরকারি দল। গত মঙ্গলবার বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সানাউল্লাহ সানু ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালিমা হোসেন শান্তা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। আর প্রতিদ্বন্ধিতা না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ভোট গ্রহণের আগেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এমএ রশিদ মিয়া। এমএ রশিদ বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সানাউল্লাহ সানু নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়পার্টির আহ্বায়ক ও সালিমা হোসেন শান্তা বন্দর উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি। সানুর প্রতিদ্বন্ধি থাকলেও তারা নির্বাচনে ভোট
গ্রহণের আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেন। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উড়োজাহাজ প্রতীকে ১১ হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বই প্রতীক নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আক্তার হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৪৬৮ভোট। এছাড়া তালা প্রতীকে নুরুজ্জামান ২৪১২ ভোট, টিউবওয়েল প্রতীকে শাইদুল ইসলাম জুয়েল ৪৮৭ ভোট এবং চশমা প্রতীকে হাফেজ পারভেজ ২৬৮ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু এই চারজনই ভোট গ্রহণের আগের দিন সানুর পক্ষে গণসংযোগ করেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সালিমা হোসেন শান্তা। ফুটবল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি মহিলা দলের নেত্রী অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার কলস প্রতীকে পেয়েছন ৪১৪২ ভোট। ১৮১০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন মহানগর যুব মহিলা লীগের নেত্রী নুরুন্নাহার সন্ধ্যা। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ। ৯৮ হাজার ১২৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৭ হাজার ৩৪২টি। নির্বাচনে ১৭ দশমিক ২৩ শতাংশ ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেছেন। গত নির্বাচনে এখানে বিএনপির সমর্থনে দ্বিতীয় বারের মত চেয়ারম্যান
নির্বাচিত হন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। ওই নির্বাচনে প্রথমে চেয়ারম্যান পদে ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনিত করা হয়েছিল বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দীন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াত ইসলামীর নেতা সাইফুল ইসলাম ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তারকে। কিন্তু নূরউদ্দীনের পক্ষে জোটের নেতারা বন্দরের গণসংযোগ করছিলেন ঠিক তখনি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ঘোষণা করেন এখানে বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান মুুকুল। একই সঙ্গে মুকুলকেই বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জানিয়ে নুরউদ্দীনকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।পরবর্তীতে বিএনপি জামাতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল, জামায়াত ইসলামীর নেতা সাইফুল ইসলাম ও বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী মাহমুদা আক্তার নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর মুকুল ও মাহমুদা আক্তার সরকারি দলের সঙ্গে প্রকাশ্যে আতাত করে বন্দর উপজেলায় চেয়ার ধরে রাখলেও সাইফুল ইসলাম মামলায় জর্জরিত হয়ে কোন দায়িত্বই পালন করতে পারেননি। তিনি ছিলেন কারাগারে ও আত্মগোপনে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *