না’গঞ্জে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রমরমা বাণিজ্য

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নগরের পরিচিত দুটি হাসপাতাল ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল। হাসপাতাল দুটিতে প্রায় চিকিৎসার ও রোগ নির্ণয় পরীক্ষার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের চারপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নেই লাইসেন্স, নেই সকল সুযোগ-সুবিধা। সরকার কর্তৃক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোন নিয়ম না মেনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এসব ডায়গনস্টিক সেন্টার। এই চিকিৎসা ব্যবস্থায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপে রাজধানীর ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল দুটির পাশে পরিচিত কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে রয়েছে মেডি এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, নোভা ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, আল্ট্রামেড সেন্টার, হলি ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, মেডি লাইফ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, একতা মেডিকেল সার্ভিসেস, নিউ হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস, ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদি। অনুসন্ধানে দেখা য়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চারপাশে সারাদিন ঘিরে থাকে দালাল দল। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ছল-ছাতুরি করে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে এসে টেস্ট করা হচ্ছে। টেস্টের নামে প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে টেস্টের টাকা পরিশোধ করেই সর্বস্বান্ত হয়ে আর পরবর্তী চিকিৎসা করাতে পারেন না নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির রোগীরা। আবার বেশি টাকা দিয়ে টেস্ট করলেও সবসময় সঠিক রোগ নির্ণয় হচ্ছে না। সেন্টারগুলোর পরীক্ষকদের যোগ্যতা এবং দক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের। আয়া ও নন টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। খানপুর হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে মেডি এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে এসেছেন ফতুল্লার নিবাসী শামীমা বেগম। নিজের মেয়েকে ডাক্তার দেখিয়েছেন। তার মেয়ের শরীর হঠাৎ ফুলে গেছে। ডাক্তার একাধিক পরীক্ষা করতে দিয়েছেন। কিন্তু এর আগেও টেস্ট করে কোন রোগ ধরা পরেনি বলে জানান। তিনি বলেন, মেয়ের শরীর ফুলে যাওয়ার এর আগে ডাক্তার দেখাইয়া পরীক্ষা করছি। এর আগে গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে টেস্ট করেছিলাম। কোন রোগ ধরা পরে নাই। ডাক্তারের ঔষধ খেয়ে কমছে। এখন আবার একই অবস্থা। এই ভাই (দালাল) এখানে নিয়ে আসছে। বলল এখানে পরীক্ষা করলে ভাল হবে। আগের বার ২ হাজার টাকার টেস্ট করছি। এবার আবার সাড়ে ৩ হাজার টাকার টেস্ট দিছে। ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের পাশে সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস। রোগীর অভাব নেই। দালাল ব্যবস্থায় জমে উঠেছে এখানকার বাণিজ্য। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী এনে এখানে ব্যবসা চলছে। অথচ এখানে রোগ র্নির্ণয় করার পরিপূর্ণ ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায় সব ধরনের পরীক্ষা হাসপাতালে করা হয়। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেই সাথে নির্দেশনা না মেনে যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে সেগুলো অবৈধ। আগামী মাসেই এর উপরে একটি অভিযান চলবে। তখন যেসব ডায়গনস্টিক অবৈধ সেগুলোর উপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *