ক্ষমতাসীনদের বিরোধ মেটাবে কে?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সাংসদ শামীম ওসমানকে হ্যামিলনের বাশিওয়ালা বলা হয়। যার এক ডাকে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসে মূর্হুতের মধ্যে। যিনি দেশে এবং দেশের বাইরে থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার কক্ষমতা রাখেন। দলের তৃনমূল থেকে শুরু করে হাইকমান্ড সাংসদ শামীম ওসমানের প্রযোজনীয়তা অনুভব করেন। কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমান বিরোধীরা এখন একাট্টা হয়েছে। কারনে অকারনে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে শামীম ওসমান ও তার পরিবার নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনায় লিপ্ত হচ্ছে। দলের ভেতরে শামীম বিরোধী শিবিরের মাথা ব্যাথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবার। নারায়ণগঞ্জের যে কোন বিষয় নিয়ে সাংসদ শামীম ওসমানকে জড়িয়ে শুরু হয় সমালোচনা। আর এ নিয়ে শামীম শিবিরও বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করছে। আর এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পরছে। এদিকে শামীম ওসমান সমর্থকরা মাঝ মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। ওসমান পরিবারের সমর্থকদের মতে, দলের ভেতরের কিছু নেতা আছেন যারা শামীম ওসমান কিংবা তার পরিবারের সমালোচনা করে আলোচনায় আসতেই এমনটা করে থাকেন। সমালোচনা করে মনে করেন তারা বড় নেতা হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে যে কোন সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির উত্তাপ রাজপথে ছড়িয়ে পরতে পারে। এদিকে, বেশ ক’মাস ধরে শহর, বন্দর ও ফতুল্লার কিছু নেতা ওসমান পরিবার নিয়ে বেশী সমালোচনায় লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। দলের ভেতরের ঘাপটি মেরে থাকা বেশ কিছু নেতা মধ্যম সাড়ির নেতাদের পর্দার আড়ালে থেকে উস্কে দিয়ে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেয়াচ্ছে এমন অভিযোগ ওসমান পরিবার পন্থি নেতাকর্মীদের। সম্প্রতি ত্বকী হত্যাকান্ড নিয়ে বেশ ক’জন সাংবাদিক নেতা এবং আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ওসমান পরিবারের গ্রেফতার দাবি করে বক্তব্য দেয়া নিয়ে পুরো শহর জুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ফতুল্লার বিতর্কীত শ্রমিক নেতা পলাশ আলীগঞ্জের খেলার মাঠ রক্ষার নামে ওসমান পরিবার বিরোধীদের এ মঞ্চে এনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে ওসমান পরিবার পন্থি ও বিরোধীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তবে চলমান এই পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগের ভেতরের ওসমান পরিবার বিরোধী বেশ ক’জন নেতাকেই দায়ি করছেন বিশ্লেষক মহল। পাশাপাশি এই বিরোধ নিরসনে দলের হাইকমান্ডের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের এখনি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *