আজ বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১ | ২৭ শাবান ১৪৪৬ | সকাল ১০:১১
শিরোনাম:
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে    ♦     পরিবারসহ শামীম ওসমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা    ♦     নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদলে বিরোধী নেই    ♦     নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের উদ্যোগে শহীদ দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন    ♦     চুরি-ছিনতাই দমনে নাগরিক প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলুন    ♦     শেখ হাসিনার নির্দেশে পিলখানা হত্যাকান্ড ঘটেছে: মামুন মাহমুদ    ♦     বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত ধাপ    ♦     শেখ হাসিনার দোসররা এখনো সক্রিয়    ♦     জেলা বিএনপির সমাবেশে বজলুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ    ♦     সেনা প্রধানের সর্তকবার্তা    ♦    

ক্ষমতাসীনদের ঐক্যের দাবি!

ডান্ডিবার্তা | ২৬ জুন, ২০২৩ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট উন্নয়নের স্বার্থে সমঝোতা চায় নারায়ণগঞ্জবাসী। এছাড়া রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সমঝোতার চেষ্টা কিংবা এক সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেটাও ভেস্তে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের কোন কোন নেতার একঘেয়ামী কিংবা দম্ভক্তির কারনে। ফলে নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যকার সমঝোতার মাঝে তৃতীয় একটি শক্তি দেয়াল সৃষ্টি করে তারা নিজেরাও ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। অনেকে সমঝোতার মধ্যকার দেয়াল তৈরী করে নানা ভাবে লাভবানও হচ্ছে। তৃতীয় এ শক্তির সাথে ডান-বাম ঘরানার অনেক রাঘব বোয়াল রয়েছে। আর এই তৃতীয় শক্তির কারণেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কোন ধরনের সমঝোতা হচ্ছে না এমন দাবি নারায়ণগঞ্জবাসীর। তবে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপ্রিয় মানুষ নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কোন বিরোধ কিংবা অনৈক্য চায় না। সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার বিরোধ মিটানোর উদ্যোগ নিলেও তার চেষ্টা শতভাগ সফল হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উত্তর-দক্ষিন মেরুর রাজনৈতিক দূরত্ব বর্তমানে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি নিয়ে অপরাজনীতি হচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকেই। শত চেষ্টা করেও এই অপরাজনীতি থেকে বের হতে পারছে না নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ ৫২ বছরে এই রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জে যে পরিমান উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা থেকে পিছিয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ। কোন ভাবে রাজনৈতিক বিরোধ মিটানো যাচ্ছেনা। আর এই রাজনৈতিক বিরোধের পেছনে কেউ না কেউ উন্ধন যুগিয়েছে আসছে। বিশেষ করে ২০০৩ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাবাসী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ওসমান পরিবার সমর্থন দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যাধানে বিজয়ী করেছে। এই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর পরই মেয়র আইভী ওসমান পরিবার বিরোধী হয়ে ওঠে। এর পেছনে কিছু ডান-বাম ঘরানার লোকজন জড়িত ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। এর পর থেকে মেয়র আইভী ওসমান পরিবার বিরোধী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। একটি শ্রেণী মেয়র আইভীকে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে বলে মনে করছেন নগরবাসী। তবে এই বিরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের কাঙ্খিত উন্নয় থেকে বঞ্চিত। ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ডা:আইভী ও শামীম ওসমান অংশ নেয়। নির্বাচনের শুরু থেকে বিএনপি নেতৃত্বধীন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকে তৈমুর। কিন্তু নির্বাচনের আগের রাতে তৈমুরকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে শামীম ওসমান হঠাও মনোভাব নিয়ে নির্বাচনের মাঠে অবস্থান নেয় মেয়র আইভী, বিএনপি, জামাত, কিছু বাম ঘরানার নেতারা। আর পর্দার আড়াল থেকে দিক নিদের্শনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও বাম দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল সদর-বন্দর আসনের সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর জুন মাসে সদর-বন্দর আসনের উপ-নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সেলিম ওসমান সিটি কর্পোরেশনে যেয়ে আইভীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আইভীকে একত্রে কাজ করার আহবান জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তখন মেয়রের কাছ থেকে কোন সাড়া পায়নি সেলিম ওসমান। এরপর থেকেই বহু সভা অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে একত্রে কাজ করার আহবান জানিয়ে আসছেন। সাংসদ শামীম ওসমানও মেয়র আইভীকে ছোট বোন আখ্যা দিয়ে এক সঙ্গে কাজ করার আহবান জানালেও মেয়র আইভী তার আহবানে সাড়া দেয়নি। এরপর সাসিকের দুইবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সাংসদ শামীম ওসমান বরাবরই দলীয় প্রার্থী আইভীর পক্ষে মাঠে নামেন। এমনকি দলীয় নেতৃবৃন্দেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় নির্বাচনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকার জন্য। এরপরেও নাসিক মেয়র আইভী বিভিন্ন সময় দলীয় সভা সমাবেশ কিংবা সামাজিক আলোচনাগুলোতেও ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। নগরবাসী মনে করছেন, একটি মহল মেয়র আইভীকে ভুল পথে পরিচালিত করে ঐক্যের মধ্যখানে বিশাল দেয়াল তৈরী করে দূরত্ব সৃষ্টি করে রেখেছে। মেয়র আইভীর ইচ্ছে থাকা সত্বেও ষড়যন্ত্রের দেয়াল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারছে না। যার ফলে নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে রাজনীতিকদের এক কাতারে এসে কাজ করতে জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের প্রতি আহবান জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এভাবে রাজনৈতিক দুরত্ব চলতে থাকলে নারায়ণগঞ্জবাসী শত চেষ্টা করেও কাঙ্খিত উন্নয়ণ পাবেনা। এখন দেশ ডিজিটাল হচ্ছে। মানুষ আধুনিক হয়েছেন। মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের উন্নয়ন ঘটাতেই হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ডিজিটাল করে দেশের মানুষের জীবন মান বৃদ্ধি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হলে সকল রাজনৈতিক দলের এক কাতারে এসে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ দেয়া। বর্তমান মেয়র আইভীও নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে যেমন আন্তরিক তেমন বর্তমান সাংসদবৃন্দরাও আন্তরিক। আর এই সুযোগে তারা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন সাধন করে জনগণের হৃদয়ে আজীবন স্থান করে নিতে পারবেন। এ জন্য এখন সময় এসেছে যারা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন চায় না তাদের চিহৃত করে পরিত্যাগ করা। নারায়নগঞ্জের উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরুর বিরোধ মিটিয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের এক কাতারে কাজ করবে বলে আশা করেন নারায়ণগঞ্জবাসী।




Your email address will not be published.

Comments are closed.


আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকা
ফেসবুকে আমরা
পুরনো সংখ্যা
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮  
Copyright © Dundeebarta 2024
ডান্ডিবার্তা