টপকে গেলেন সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের প্রথম নামটা নিয়ে রীতিমত ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা চলছে। কখনো জো রুট, কখনো ডেভিড ওয়ার্নার ছিলেন শীর্ষে। সবচেয়ে বেশিবার এই আসনে উঠেছিলেন সম্ভবত বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। একদিন আগেও অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্নার প্রথমে ছিলেন। গতকালই যেমন তাকে টপকে শীর্ষে উঠে এলেন সাকিব। খুব বড় কিছু না, গতকাল সাউদাম্পটনের স্পিনিং ট্র্যাকে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। আর এটাই তাকে আবারো শীর্ষে উঠিয়ে দিল। ছয় ইনিংসে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের রান এখন ৪৭৬। এর মধ্যে আছে দু’টি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরি। গতকাল ষষ্ঠ ইনিংস খেলতে নেমে তিনি এই বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মত পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেললেন। এমন খুনে মেজাজে সাকিব তার গোটা ক্যারিয়ারেই আগে কখনো ছিলেন না। ব্যাটিং গড় ও স্ট্রাইক রেটেও নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মানে ওয়ার্নার ও রুটের চেয়ে এগিয়েই আছেন সাকিব। সাকিবের স্ট্রাইক রেট ৯৯.১৬। অন্যদিকে ব্যাটিং গড় আরো ঈর্ষণীয় – ৯৫.২০! এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কত দূর যাবে সেটা আগাম বলা মুশকিল। তবে, সাকিবই যে এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পারফরমার সেটা চোখ বুজে বলে দেওয়া যায়। চলতি বিশ্বকাপে ৪০০’র ওপর রান করেছেন আরো দু’জন। তারা হলেন ওয়ার্নার ও ইংল্যান্ডের রুট। এর মধ্যে ওয়ার্নার ৪৪৭ ও রুট ৪২৪ রান করেছেন। দু’জনই খেলেছেন ছয়টি করে ম্যাচ। তবে, এই দু’জনের কেউ একজন আজ চাইলে সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেও যেতে পারেন। কারণ, আজ লর্ডসে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকাল টস জিতলে ব্যাটিং নেওয়ারই পরিকল্পনা করে রেখেছিল। যদিও, টস হারের পরও বাংলাদেশের পরিকল্পনামাফিক এগোবার পথটা সহজ করে দেয় আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইবের সিদ্ধান্ত। তিনি টস জিতে বোলিং নেন। স্পিনিং ট্র্যাকে রানের জন্য মোটামুটি সংগ্রামই করতে হয় বাংলাদেশকে। সাকিবের পর মুশফিকুর রহমান ইনিংসের হাল ধরেন। তিনি করেন ৮৩ রান। চারটি চার ও একটি ছক্কার এই ইনিংসটিই বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ। শেষের দিকে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ২৪ বলে করেন ৩৫ রান। ইনিংসে ছিল চারটি চার। সাত উইকেটে ২৬২ রান করে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গলার কাটা হয়ে ছিলেন আফগান অফ স্পিনার মুজিব উর রহমান। তিনি একাই তিনটি উইকেট নেন। উইকেটগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম তিন ব্যাটসম্যান লিটন দাস, তামিম ইকবাল ও সাকিবকে ফেরান তিনি। তা না হলে হয়তো ইনিংসটা আরো কিছু দূর এগিয়ে নেওয়া যেত।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *