দেওভোগ জিউস পুকুরের মালিক কারা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের দেওভোগ এলাকার ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুর নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সোচ্চার হতে শুরু করেছে। জিউস পুকুরটি দেবোত্তর সম্পত্তি হলেও একটি পক্ষ এই পুকুরটি নিজেদের বলে দীর্ঘদিন যাবত দাবী করে আসছে। জিউস পুকুরটি দেওভোগ রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়ার সম্পত্তি বলে দাবী করে আসলেও এই পুকুরের মালিকানা অন্য একটি পক্ষের নামে দলিল পত্র রয়েছে বলে এলাকার কেউ কেউ বলছে। তবে যারা জিউস পুকুরের মালিক হিসেবে নিজেদের নামে দলিল পত্র করেছে বলে শোনা যাচ্ছে তারা এখনো প্রকাশ্যে এই পুকুরের মালিকানা দাবী করে দখল নিতে আসেনি। এদিকে, গতকাল শনিবার ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হলে জিউস পুকুরে মালিকানা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানাগেছে, ময়লা ফেলে ভরাট করে অবৈধ দখলের পায়তারা করছে কুচক্রি মহল। আর এ দখলে বাধা দেওয়ায় প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নেতাকে। এ ঘটনায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ওই নেতারা। গতকাল শনিবার সকালে ওই ঘটনায় বিকেলে ভুক্তভোগী শংকর ঘোষ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন। অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে শংকর ঘোষ জানান, দেওভোগ রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়ার (দেবোত্তর সম্পত্তি) জিউস দিঘীর পূর্ব পাশে স্থানীয় বাসিন্দা মন্টিসহ আরো কতিপয় লোকজন মিলে একটি দোকান ঘর স্থাপনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমরা রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়া মন্দিরের কমিটির লোকজন ও মন্দিরের পূজারীসহ শনিবার দুপুরে বাধা প্রদান করলে মন্টি, তাঁর বাবা জসিমউদ্দিন সহ আরো কতজন লোক মিলে আমাকে ও আমার মন্দিরের লোকজনদের নানারকম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে। এতে আমার সম্মান হানি ও মন্দিরের সুনাম ক্ষুণœ হয়। এ বিষয়ে আমি আমাদের মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার সাহাকে অবগত করলে তিনি থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে অবৈধ দখলকারী দোকান ঘরটি উচ্ছেদ করে ও স্থানীয়রা পালিয়ে যায়। আর এ ঘটনায় ভবিষ্যতের ঝামেলা নিরসনে ও মন্দিরের সুনাম রক্ষার্থে একই সঙ্গে আমার জীবনের স্বার্থে একটি জিডি করি। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, একটি জিডি হয়েছে। উভয় পক্ষকে এ বিষয়ে কাগজপত্রসহ থানায় আসতে বলা হয়েছে। যাতে সুষ্ঠু সমাধান হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেওভোগ জিউস পুকুরের মালিকানা নিয়ে প্রকাশ্যে কোন বিরোধ দেখা না দিলেও আসলে এই পুকুরের মালিক কে এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *