বন বিভাগের কারসাজি!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সরকারি জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ দোকান রক্ষার স্বার্থে বিশাল আকৃতির বৃক্ষ নাম মাত্র মুল্যে বেঁচে দিয়েছে বন বিভাগ। ফতুল্লা থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রশাসনে নাকের ঢগায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ফুসে উঠছে এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে সরকারি জমিতে নাজমা ডেগারেটর নামের অবৈধ দোকানের পাশে একটি বৃহত আকৃতির বৃক্ষ কাটা হচ্ছে। তরতাজা গাছটি কার নির্দেশে কাটা হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে নাজমা ডেগারেটর মালিক মতি জানায় বন বিভাগের লোক গাছটি কাটছে। অথচ ঘটনাস্থলে বন বিভাগের কোন লোককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঐ সময় মতি তার মোবাইল দিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন বলে মোবাইলটি প্রতিবেদকের হাতে দিলে প্রতিবেদক ঐ নাম্বারে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথে ফোনটি কেটে দেয়। তারপর মতি নিয়ে আসে গাছ বিক্রির দুটি কাগজ যাতে বন বিভাগের কর্মকর্তার ছিল ও স্বাক্ষর ছিল। তবে সেখানে নাজমা ডেগারেটর মালিক মতির কোন নাম ছিল না। প্রাপকের নাম ছিল মোঃ দুলু, পিতা-আবুল হোসেন, ঠিকানা বক্তাবলী, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। মতি ঐ ব্যক্তিকে চেনে না বলে জানায়। আর গাছ কাটার জন্য ঐ কাগজ দুটি তাকে বন বিভাগের জনৈক শরিফুল ইসলাম নামের কর্মকর্তা দিয়েছে বলেও জানায়। সেই কাগজে এই বৃহত আকৃতির গাছটির মুল্য দেয়া ছিল মাত্র ২ হাজার ১ শত ২ টাকা। এ সময় ভিড় জমে উৎসুক জনতার। মতির এই চতুরতা আর বন বিভাগের দূর্নীতির কাগজ পত্র দেখে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে উৎসুক জনতা। এরপর পঞ্চবটিস্থ বন বিভাগের কর্মকর্তার অধিদপ্তরে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মুন্নাকে পাওয়া গেলো। তার কাছে প্রশ্ন- গাছটি কেটে ফেলার বিষয়টি কি জানেন? কর্মকর্তা, হ্যা। প্রশ্ন- কেন কেটে ফেলা হচ্ছে? কর্মকর্তা, টেন্ডারের প্রকৃয়ায় বিক্রি করা হয়েছে। প্রশ্ন- কি কারণে টেন্ডার দেয়া হলো? কর্মকর্তা- গাছটির পাশে একটি স্কুল রয়েছে তাই গাছটি বিপদ জনক। প্রশ্ন- স্কুলের নাম কি? কর্মকর্তা- জানিনা। প্রশ্ন- আপনি সরেজমিনে গিয়েছেন? কর্মকর্তা- না। প্রশ্ন- কিভাবে বল্লেন? কর্মকর্তা- কর্মচারীরা জানিয়েছে। প্রশ্ন- গাছটির মুল্য কত দেয়া হয়েছে জানেন? কর্মকর্তা- জানি ২ হাজার ১ শত। প্রশ্ন- গাছটির বর্তমান মূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা পারে জানেন? কর্মকর্তা- জানিন না। প্রশ্ন- এত বড় আকৃতির একটি গাছের দাম কি এত কম হতে পারে? কর্মকর্তা- উত্তর দিচ্ছিলো না। প্রতিবেদক এই কর্মকর্তাকে জানায়, এই গাছের আশপাশে কোন স্কুল নেই। শুধুই মতিকে আর্থিক লাভবান ও তার অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা ডেগারেটর দোকানের সার্থেই গাছটি কাটা হচ্ছিলো। অবশেষে এই কর্মকর্তা বল্লেন, তিনি ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও এলাকাবাসীর উত্তেজনার খরব পেয়ে গাছটির অবশিষ্ট অংশ না কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য যখন বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করছে এ সময়ে বন বিভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিসের বিনিময়ে বা কোন প্রভাবে অবৈধ দখলবাজদের সহায়তা করে যাচ্ছে? কে এই মতি যে তার সার্থে সরকারি জমি ও এই জমির বৃক্ষটি সংরক্ষন করা হলো না? এলাকাবাসীর মাধ্যে এধরনের নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোড় দাবি করা হয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *