আবারো প্রভাবশালী অপরাধীরা প্রকাশ্যে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত ১০ জানুয়ারী চাষাড়া শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ অপরাধ মুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছিলেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। ঐ ঘোষনার পর থেকেই অপরাধীদের গ্রেফতারে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে আতংক সৃষ্টি প্রভাবশালী অপরাধীদের মধ্যে। যারা এতোদিন দাপটের সাথে নানা রঅপকর্ম করে দাড়িয়ে বেড়িয়ে ছিল সেই প্রভাবশালী অপরাধীরাও আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। আবার অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগও করেছিল। পুলিশের কঠোর অবস্থান দেখে স্বস্তি ফিরে এসেছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। এমনকি গত ঈদ-উল-ফিতরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা দিয়েছিল জেলা পুলিশ। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশের নমনীয় অবস্থানের কারণে আত্মগোপনে থানা প্রভাবশালী অপরাধীরা আবারো প্রকাশ্যে এসেছেন। আর যারা গ্রেফতার হয়েছিল তারা জামিনে এসে তাদের তৎপরতা শুরু করেছেন। বর্তমানে জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী তৌরিকুল ইসলাম লিমনও শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এমন গুঞ্জন থাকলেও তাকে ধরতে বথ্য হচ্ছে প্রশাসন। জানাগেছে, টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমায় আসার নারায়ণগঞ্জে ক্ষমাসীন দলের সুবিধাবাদি নেতারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসায়, জুট-তেল সেক্টর নিয়ন্ত্রনসহ নানা অপকর্ম করেও ক্ষমতার দাপটে পাড় পেয়ে যাচ্ছিল। অনেক নেতাই তাদের মুসকিল আছান সেন্টারে ( অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সমস্য সমাধানের জন্য তৈরী করা নিজস্ব কার্যালয়) বসে বসে নানা অপকর্ম করে করে আসছিল। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে পুলিশের কঠোরতা দেখে প্রভাবশালী অপরাধীরা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মুসকিল আছাস সেন্টারগুলো। কিন্তু ঈদের পরই প্রভাবশালী অপরাধীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। একই সাথে মুসকিল আছান সেন্টারগুলোও চালু হয়ে গেছে। এতের করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরো অজানা আতংক সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধীতের গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কোন মাস্তানী চলবে না। তবে পুলিশের এমন বক্তব্যে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেলেও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হওয়ার এখনো অজানা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। সরজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রভাবশালী অপরাধীদের মধ্যে যারা গ্রেফতার হয়েছিল তারা জামিনে এসে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঝুট সেক্টর, তেল সেক্টর নিয়ন্ত্রনসহ প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজী করতেন। অভিযোগ রয়েছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকলেও সম্প্রতি অপরাধীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য। এদের কেউ কেউ পুলিশ সুপারের নিজস্ব লোক পরিচয়ে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ অবগত নন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানাগেছে। তবে এরই মধ্যে একাধিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশও হয়েছে। তাই বিষয়টি পুলিশ সুপারকে ক্ষতিয়ে দেখার জন্য আহবান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি প্রভাবশালী অপরাধীদের উপর নজরদারী বাড়াতে পুলিশ সুপারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *