মেধাবী ছাত্রীর পাশে সেলিম ওসমান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মরণব্যাধি স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী খাদিজা ইয়াসমিন আশার জীবন বাচাঁতে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। গতকাল বুধবার বিকেল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ-পাগলা-ঢাকা পুরাতন সড়কের কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন ইসদাইর এলাকায় খাদিজার বাসায় সরেজমিনে গিয়ে উপস্থিত হোন এমপি সেলিম ওসমান। খাদিজার বাসায় উপস্থিত হয়েছে তার বাবা সাংবাদিক দীল মোহাম্মদ দীলুর হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। এমপি সেলিম ওসমান নিজেও শারীরিক ভাবে গুরুতর অসুস্থ্য। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। থাইল্যান্ডের চিকিৎসকেরা তাঁকে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। দৈনিক ডান্ডিবার্তায় গত মঙ্গলবার অর্থের অভাবে মেধাবী ছাত্রী খাদিজা আক্তার আশার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে প্রকাশিত সংবাদটি শোনার পর তিনি আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। থাই চিকিৎসকের দেওয়া বিশ্রামের পরামর্শ অমান্য করে তিনি সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জে খাদিজার বাসায় গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। এ সময় তাঁর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের। এর আগে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতা চেয়ে সংবাদ মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করে সহযোগীতা প্রার্থনা করেন ক্যান্সার আক্রান্ত খাদিজা আক্তারের অসহায় বাবা সাংবাদিক দীল মোহাম্মদ দীলু। এ সংবাদটি পত্রিকা ছাপা ও অনলাইনে আপলোড হওয়ার পর নজরে আসে এমপি সেলিম ওসমানের। পরবর্তীতের তিনি খাদিজার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তার বাসায় ছুটে গিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানবতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। শুধু খাদিজা ইয়াসমিন আশাই নন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে এবং পরে এমপি সেলিম ওসমান মরণব্যাধীতে আক্রান্ত এমন অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে অকাতরে তাঁর সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। স্বপ্রোনদিত হয়ে এমপি সেলিম ওসমানের এমন সহযোগীতার মানবিকতা যেন মনে করিয়ে দেয় কালজয়ী কন্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার কণ্ঠে গাওয়া সহ¯্রাব্দের শ্রেষ্ঠ সেই গানের কথা। যেখানে বলা হয়েছে ‘ মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না’। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এমপি সেলিম ওসমান মরণব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকার আশা ফিকে হয়ে যাওয়া বা বেঁচে থাকার আশা হারিয়ে ফেলা মানুষদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করে নতুন ভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন সঞ্চার করিয়েছেন যার মধ্যে, ২০১৯ সালের ১৭ জুন বন্দর কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বুরুন্দি এলাকার ক্যান্সার আক্রান্ত ১৩ বছরের কিশোর রিফানের চিকিৎসার জন্য ৪ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতা প্রদান, দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর মন্দির এলাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত অসীম দাসের চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতা প্রদান, ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী শহরের দেওভোগ এলাকায় অসুস্থ্য অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন এর বাড়িতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগীতা এবং মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন এর ইচ্ছা অনুযারী ব্যাংকের কাছে মর্গেজ থাকা তাঁর বাড়িটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অবমুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। একই দিন মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেন এর অসুস্থ্যতার কথা জানতে পেরে সরেজিমনে তাঁর বাসায় গিয়ে জানতে পারেন তিনি মারা গেছেন। পরে তিনি মরহুম মোতালেব হোসেনের মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বাবদ তার হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী বন্দর খেয়াঘাটে হুইল চেয়ারে বসে ভিক্ষা করা আশির্ধো কুলসুম বিবিকে পূর্ণবাসনের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আর্থিক সহযোগীতা প্রদান, ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বন্দরে পঙ্গু শাহাবুদ্দিন ও নুরুল ইসলামকে একটি করে নতুন হুইল চেয়ার এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য নগদ ২৫ হাজার করে টাকা প্রদান, ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর ক্যান্সার আক্রান্ত নাজমা আক্তারকে চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতা,  দূরারোগে আক্রান্ত সৈয়দপুর এলাকার ৬ বছরের শিশু কায়নাতকে চিকিৎসার জন্য তিন দফায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগীতা প্রদান, ২০১৭ সালের ১৬ মে হৃদরোগে আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা করিমকে চিকিৎসার জন্য  ৩ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতা প্রদান, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা নারায়ণগঞ্জ কলেজের মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক বিশ্বজিৎ বসুর পরিবারকে  ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ৫লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতা প্রদান, ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্যান্সার আক্রান্ত সাবিকুন্নাহার চৈতির চিকিৎসায় ১ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতা, ২০১৭ সালের ১৪ জুন বন্দর থানা এলাকার ক্যান্সার আক্রান্ত জানে আলম, ক্যান্সার আক্রান্ত নান্নু মিয়া এবং ফিস্টোলা রোগে আক্রান্ত নজরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য প্রত্যেককে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগীতা, বন্দরে হরিজন সম্প্রদায়ের স্বাধীন লালের মেয়ে কিডনী রোগে আক্রান্ত সাধনা রানীর চিকিৎসা ব্যয় বহন, ২০১৫ সালের ২৮ জুন সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত ৬ বছরে শিশু অঙ্কিতার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগীতা ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগীতা প্রদান, ২০১৬ সালের ২১ জুন বন্দর মুছাপুর ইউনিয়নের জহরপুর এলাকার পঙ্গু জহিরুল ইসলামকে তার সংসারের ব্যয়ভার বহনের জন্য প্রতিদিন ১০ লিটার পরিমান দুধ দেওয়া একটি গাভী ও একটি বাছুর এবং গাভীর পরিচর্যায় নগদ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগীতা প্রদান করেছেন। স্বপ্রনোদিত হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারন জানতে চাইলে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, একজন অসহায় মানুষের বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়ানো, তাঁকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষেরই দায়িত্ব। আমি আমার সেই দায়িত্ব বোধ থেকেই আমার সাধ্যমত সহযোগীতা করার চেষ্টা করে থাকি এবং সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তাঁরা যেন অন্তত তাদের একজন প্রতিবেশীর বিপদে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাহলে আমাদের সমাজ থেকে দূর হতে অসহায়ত্ব। গড়ে উঠতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *