জনদাবীতে ভূমিকা নেই সাখাওয়াতের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আইনাঙ্গন থেকে উঠে আসা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আলোচিত ও সমালোচিত নেতা অ্যাডভোকেট সাখওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপি থেকে লাইনচ্যুত হয়ে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের শুরু থেকেই তিনি আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার জনদাবীতেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের পিছুটান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও তিনি কয়েকবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কার্যতপক্ষে তাকে জনগণের পক্ষে কোন আন্দোলন কর্মসূচিতে পাওয়া যাচ্ছে না। শুধুমাত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া ব্যক্তিগত মন্তব্যের মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছেন। জানা যায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটর কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বিএনপি গত ২জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা বাদে সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় এদিন বিকেলে শহরের বালুরমাঠ এলাকার তিতাস গ্যাস অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। সেই সূত্র ধরে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এবং পরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু এই কর্মসূচিতে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে। প্রতিবারের মতো এবারও তাকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ব্যানারে আসতে দেখা যায়নি। অন্য সময় দলীয় কর্মসূচি আলাদাভাবে মহানগরের ব্যানারে পালন করলেও এবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আলাদাভাবেও কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি তাকে। আর এটা করে আসছেন মূলত মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বয়কট করার জন্যই বলে অভিযোগ নেতাদের। এর আগে গত ২১ মে কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্য প্রদান ও পাটকল শ্রমিকদের জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবাায়ন ও বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা মেনে নেওয়ার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কেন্দ্রীয় ঘোষিত এই কর্মসূচিতেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাদের সাথে দেখা যায়নি সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে। সেই সাথে একই দাবিতে গত ২৩ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের দেখা মিলেনি। তবে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের এই অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কয়েকবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও তাকে জনগণের পক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তার এই নিরবতা জনগণের পক্ষে কাজ করা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে ডিঙ্গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সহজেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হয়ে যান। এর আগে ২০০৯ সালে শহর বিএনপির মুলধারার কমিটিতে ঠাঁই না পেয়ে বিদ্রোহী কমিটি গঠন করেছিলেন সাখাওয়াত। যেখানে নুরুল ইসলাম সর্দারকে সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন খান নিজে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এদিকে ২০১৭ সালের নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মহানগর বিএনপির নেতাদের সাথে কোন কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি তাকে। সবসময় তিনি দলীয় শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মতির বাইরে গিয়ে মহানগর বিএনপির ব্যানারে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে থাকেন। সেই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নিজ স্বার্থের জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক কমিটিতেই প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে থাকেন। ফলে কমিটির বিদ্রোহী নেতারা তার আশ্রয় পশ্রয় পেয়ে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোতেও কোন্দল সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সবকিছুতেই তিনি নাটের গুরু হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *