ওসমান পরিবারের বিকল্প তৈরী করতে তিন গ্রুপ একাট্টা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের আওয়ামীলীগ জোট দলের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তবে ৫টি আসনের ৪টিতে ওসমান বলয়ের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।  এর মধ্যে দুটি আসনে ওসমান পরিবারের দুই সদস্য জয়লাভের মধ্য দিয়ে এ জেলার আওয়ামীলীগ জোট দলের কর্তৃত্ব তাদের দখলে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া এ জেলার রাজনীতিক নেতাকর্মীরা এখন ওসমান পরিবারের দুই সাংসদকে ফুল দিয়ে বরণ করে উত্তরমুখী হচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনে ওসমান পরিবারের জয়ের মধ্য দিয়ে এখানকার রাজনীতি এখন ওসমানমুখী হয়েছে। এ জেলার আওয়ামীলীগের রাজনীতি দুই মেরুতে বিভক্ত রয়েছে। আওয়ামীলীগ দলটির সূচনা থেকেই এখানকার ওসমান পরিবারে ও চুনকার পরিবারের দ্বন্দ্বের ফলে এখানকার রাজনীতি দুটি মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব তাদের বংশ পরাক্রমে তাদের উত্তরাধিকারদের হাতে চলে যায়। বর্তমানে ওসমান পরিবারের কর্ণধার সাংসদ শামীম ওসমান ও আরেক সদস্য সেলিম ওসমান ওসমান মেরুর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে চুনকা পরিবারের কর্ণধার মেয়র আইভী নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এক মেরু অন্য মেরুকে ছাড় দিতে নারাজ। তাই যে কোন ইস্যুতে এক মেরু অন্য মেরুকে ঘায়েল করে এগিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করে থাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এই নির্বাচনে মনোনয়ন ইস্যুতে দুই মেরুই তাদের নিজ নিজ বলয়ের নেতাদের মনোনীত প্রার্থী বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষতক জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনেই ওসমান বলয়ের অনুগামীরা মনোনয়ন পেয়ে যায়। এর মাত্র একটি আসনের আইভী মেরুর অনুগামী মনোনয়ন পায়। সেই নির্বাচনে আওয়মাীলীগ জোট দলীয় এই ৫টি আসনের প্রার্থীরা জয়লাভ করে। এতে করে এখানকার আওয়ামীলীগ জোট দলীয় নেতাকর্মীরা এখন ওসমান পরিবার মুখি হচ্ছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওসমান পরিবারের দুই সদস্যদের জয়লাভ সহ ওসমান বলয়ের মোট ৪ জন প্রার্থী জয়লাভের কারণে আওয়ামীলীগ জোটের নেতাকর্মীরা তাদেরকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানাচ্ছেন। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে রূপগঞ্জ আসনের সাংসদ হয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজী, আড়াইহাজার আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, সোনারগাঁ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ও সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান। এই ৫ জন সাংসদের মধ্যে সোনারগাঁ আসনের গোলাম দস্তগীর গাজী ব্যতিত বাকি সবাই ওসমান বলয়ের সাংসদ। এর মধ্যে দুটি আসনে সয়ং ওসমান পরিবারের দুজন সদস্য রয়েছে। জয়লাভের পর থেকেই ওসমান পরিবার মেরুর দিকে রাজনীতিক নেতাকর্মীরা অনেকটা ঝুঁকে পড়েছে। এদিকে, আওয়ামীলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত শনিবার মহানগর আওয়ামীলীগ ও গত রবিবার জেলা আওয়ামীলীগ শহরে র‌্যালী করেছে। মহানগর আওয়ামীলীগের চেয়ে কয়েকগুন বড় র‌্যালী করে তাক লাগিয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ। তবে জেলা আওয়ামীলীগের বিশাল এই র‌্যালীর আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে সাংসদ শামীম ওসমানের হাত। ঐ র‌্যালীতে সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারিরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে র‌্যালীতে যোগদান করায় প্রথমবারের মত শহরে তাক লাগানো কোন কর্মসূচী পালন করতে সফল হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ। তবে ঐ র‌্যালীতে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর অনুসারিরা নেতাকর্মী ছাড়াই একা একাই যোগদান করেছিলেন। তাই অনেকে বলছেন, এতে করে আইভী মেরু অনেকটা থমকে গেছে। ওসমান মেরুর জোয়ারের ফলে আইভী মেরু অনেকটা রোশানলে পড়তে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাংসদ সেলিম ওসমানের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরের ঘটনায় আইভী বলয়ের আওয়ামীলীগ পদধারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপট সেই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেকারণে আইভী মেরুর নেতাকর্মীরা অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতি মূলত ওসমান ও আইভী মেরুতে বিভক্ত। এখনকার আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি যাই হোকনা কেন, সব দলের রাজনীতি মূলত দুটি মেরুতে বিভক্ত। তবে এবার সেই রাজনীতিকে ওসমান মেরুর দুই সাংসদের জয়ের মধ্য দিয়ে জোয়ার এখনে সেই দিকে বইছে। যেকারণে রাজনীতিক নেতাকর্মীরা সেই দিকে ঝুকে পড়ছে।’

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *