কমিটি গঠনে ব্যর্থ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ

ডান্ডিবার্তা রিপের্টি
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার তিন মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পুরনো কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন মাস পরে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে। কিন্তু জেলা ও মহানগরের কমিটি ঘোষণার ১৪ মাস পার হলেও ৪ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতেই রয়ে গেছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। দীর্ঘ সময়ে জেলা ও মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়াতে ছাত্রলীগের মধ্যে গতিশীলতা আসেনি। এর প্রভাব পড়েছে ছাত্রলীগের উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় এর প্রভাব পড়বে তাদের ভবিষ্যত রাজনীতির উপর। জেলা ও মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়াতে অনেক দিন ধরে যারা পদপদবীর আশায় রাজপথে সক্রিয় তারা জায়গা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার পরও পদ না পাওয়াতে কর্মীর পরিচয়ই রয়ে গেছে সবার। ফলে অনেকটাই নিস্ক্রিয় তারা। একাধিক মাঠ পর্যায়ের ছাত্রলীগের নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি কিন্তু কমিটিতে পদ পেলাম না। এদিকে ছাত্রত্বও শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ছাত্র রাজনীতির পরিচয় দেওয়ার মতো কিছু থাকছে না। দীর্ঘ সাত বছর পর গত বছরের ২৯ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই দিন মহানগর কমিটিও ঘোষণা করা হয়। কমিটি দু’টিতে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যাডে ঘোষিত কমিটিকে এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাইল রাফেল প্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে মহানগর কমিটিতে হাবিবুর রহমান রিয়াদকে সভাপতি ও হাসনাত রহমান বিন্দুকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এক বছর মেয়াদের ঘোষিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। জেলা ও মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কমিটিগুলোর সাংগঠনিক ভিতও নড়বড়ে। তাছাড়া উপজেলা ও থানা পর্যায়েও অনেক কমিটির মেয়াদ পার হয়েছে বহু আগে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারছে না ছাত্রলীগ। জেলা কমিটি আসার পর কেবল রূপগঞ্জ থানার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য থানা কমিটিগুলোতে বুড়োরাই পদপদবী দখল করে আছে। মোটকথা জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রলীগের বেহাল অবস্থা। তাই জেলা ও মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এমনটাই মনে করছেন ছাত্রলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এদিকে সহসাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হচ্ছে না বলে জানান জেলা কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ। তিনি বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। তবে এখনই তা হচ্ছে না। কমিটিতে অনেক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী আগস্টের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আসার সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়া রূপগঞ্জ থানা কমিটি ছাড়া জেলার অন্য কোন থানাতে কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দুও জানান একই কথা। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। কেন্দ্র থেকেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন আসবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *