গর্জন দিয়ে নিশ্চুপ না’গঞ্জ বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বিভিন্ন সময়ে রাজপথে নামার গর্জন দিলেও দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে তাক্ লাগানো কোন কর্মসূচী পালন করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে কেন্দ্রীয় ভাবে নানা কর্মসূচীর ঘোষনা দিলেও তা পালনে অনীহা স্থানীয় নেতাকর্মীদের। অনেকটা আন্দোলনে অনিহা চলে এসেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। উদ্দেশ্যহীন ভাবে চলমান এ আন্দোলনের কারনে সাধারন মানুষের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটা অতিষ্ট হয়ে গেছে। এখন আর কেউ এ আন্দোলনের পক্ষে রাজপথে নামতে চাচ্ছে না। বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মীর সাথে আলাপকালে এমন অভিব্যাক্তি ফুটে উঠেছে তাদের আলোচনার মধ্যদিয়ে। জানাগেছে, নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে বিভিন্ন কর্মসূচী দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। গত ২ জুলাই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষনা দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনের নামে গলিতে দাঁড়িয়ে ফটোসেশন করে নিজেদের দায় মুক্ত করেছেন। গতকাল রবিবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে হরতাল পালন করেছে বাম নেতারা। বিএনপির নেতাকর্মীর সংখ্যা বামেদের তুলনায় অনেক বেশি হলেও নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বাম নেতাদের দাপট দিন দিন বাড়ছে। ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ভাবে বাম সংগঠনগুলোর চেয়ে অনেক দূর্বল অবস্থায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। মূলত রাজপথে নামতে অনীহার কারলেই দিন দিন সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সময়ে রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েও ছিলেন নিশ্চুপ। বিশেষ করে একাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তি সময়ে নেতা কড়া কড়া বক্তব্য দিলেও রাজপথে আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানাগেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জেলার সাতটি থানায় মামলা হয়। ঐ মামলার পর অনেকেই আত্মগোপনে চলে যায়। তবে নির্বাচনের একমাস পূর্বে তারা প্রকাশ্যে আসলেও নির্বাচনের ঠিক ১৫ দিন আগেই আবারো আত্মগোপনে চলে যায়। নির্বাচনের সময় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলে বর্তমানে রয়েছেন নমনীয় অবস্থায়। তারপরও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। গতকাল রবিবার চাষাড়া বিএনপির এক নেতার সাথে আলাপ কালে তিনি নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাই ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁতা করে রাজনীতি করছেন। কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ব্যবসায়ী পাটনার হয়ে ফায়দা লুটছেন। আর যারা রাজপথে নামতে চাইছেন তাদেরকে বেকায়দায় ফেলা হচ্ছে। একারণে নারায়নগঞ্জে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি অসম্ভব হযে পড়েছে। সূত্রমতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন রাজপথে না নেমে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও অনেক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পুলিশি ভয় ও একাধিক মামলা নিয়ে ফেরারী জীবন যাপন করছে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় বিএনপির তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান আন্দোলন নিয়ে অনীহা দেখা দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা নতুন করে মামলায় জড়াতে চাচ্ছেন না। তাই তাদের রাজপথে নামতে অনীহা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *