না’গঞ্জের উন্নয়ন হচ্ছে না অনৈক্যের কারণে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ণের চেয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে বেশি সময় পার করছেন। আর জনপ্রতিনিধিদের অনৈক্যে কাঙ্খিত উন্নয়ণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। ভোটারদের ভোটে প্রত্যক্ষ ভাবে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা জনস্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ না করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্বের খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ ভোটারা। জনপ্রতিনিধিরা একে অপরকে ছাড় না দিয়ে উল্টো ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠার কারণে উন্নয়ণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনীতির সঠিক চর্চার অভাব রয়েছে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে-এমন মন্তব্য বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ণের আগ্রহ থাকলেও শুধুমাত্র অহমিকার কারণে অনৈক্যে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ হারিয়ে ফেলছে তার ঐতিহ্য। এছাড়াও বার বার কলঙ্কের তিলকে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। আর এরজন্য দাবী জনপ্রতিনিধিরাই। জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলেও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়নের দিক দিয়ে কোন অংশে পিছিয়ে থাকবে না। এছাড়া বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জের যে সুনাম ছিল তাও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন নারায়ণগঞ্জে সচেতন মহল। তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে সাংসদ সেলিম ওসমানের মত একজন ব্যবসায়ী নেতা জনপ্রতিনিধি, সাংসদ শামীম ওসমানের মতো একজন দক্ষ রাজনীতিক রয়েছে সেখানে কেন উন্নয়ণ হবে না। একই সাথে আইভীর মতো সাহসী একজন মেয়র রয়েছে সেই নারায়ণগঞ্জ পিছিয়ে থাকতে পারে না। এছাড়াও একজন মন্ত্রীয় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জে। রূপগঞ্জ আসনের সাংসদ এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মত একজন অভিজ্ঞ নেতা থাকা সত্বেও শুধু মাত্র অনৈক্যের কারণে নারায়ণগঞ্জে কাঙ্খিত উন্নয়ণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে কাঙ্খিত উন্নয়ণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজন কেবল ঐক্যমত্যের রাজনৈতিক চর্চা। এ জন্য নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিদের এখনি একত্রিত হয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে এক টেবিলে বসা প্রয়োজন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে নারায়ণগঞ্জবাসী। সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এখনই উত্তম সময়। আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বারের ন্যায় ক্ষমতায় থাকার কারণে প্রচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের পূর্বেও সেই অবস্থান ফিরে পাওয়ার বিষয়টি অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে যে ক’জন জনপ্রতিনিধি রয়েছে তাদের বেশীর ভাগই উন্নয়নের ব্যাপারে আগ্রহী। সাংসদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ার ও মেম্বার পর্যন্ত সকলেই উন্নয়ণের পক্ষে কাজ করছেন। তবে তাদের অনৈক্যের কারণে উন্নয়ণ ব্যাহত হচ্ছে। আগামী রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ঘোষনা করা হচ্ছে। বাজেট ঘোষনা অনুষ্ঠানে তিন সাংসদকে অতিথি করা হলেও বাকি দুইজনকে দাওয়ায় পর্যন্ত দেয়নি সিটি কর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষ। অথচ উন্নয়ণের স্বার্থে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর পাশে যদি পাঁচ সাংসদই উপস্থিত থাকতেন তাহলে সাধারণ মানুষ কাঙ্খিত উন্নয়ণ পেতেন। প্রশ্ন উঠেছে, দুই সাংসদকে দাওয়াত না দেয়ার কারণে জনপ্রতিনিধিদের অনৈক্য অনেটা স্পষ্ট। এছাড়াও উপজেলা পরিষদগুলোতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে রয়েছে অনৈক্য। প্রায় সময়ই সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে মুখমুখী অবস্থানে দেখা যায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার কর্মকর্তারা। সোনারগাঁ আসনের সাংসদ ও সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে রয়েছে দ্বন্দ্ব। জানাগেছে, মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী। আর নিজস্ব তহবিল থেকেও নানা ধরনের উন্নয়ণ মূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে সাংসদ সেলিম ওসমান। আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছেন সাংসদ শামীম ওসমান। দ্বিতীয় বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হয়ে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকাও উন্নয়ণে পিছিয়ে নেই। আর উন্নয়ণের ধারা অব্যাহত রেখেছেন সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশেনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীও তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতা ভুক্ত এলাকার রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। তারপরও কাঙ্খিত উন্নয়ণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাই উন্নয়ণের স্বার্থে ঐক্যমত্যের রাজনৈতিক চর্চা প্রয়োজন জনপ্রতিনিধিদের।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *