দেড় মাসে ৪০ পরিবহন চাঁদাবাজ আটক

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
গত দেড় মাসে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ৪০ জন পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রেফতার হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহন চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত ৪ জন শীর্ষ চাঁদাবাজ গ্রেফতার হয়েছে যারা শ্রমিকলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ ও জাসদ নেতা হিসেবেও পরিচিত। জানা গেছে, গত সোমবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এস ইন্টারন্যাশনাল ফিলিং স্টেশন এর সামনে থেকে পরিবহনে চাঁদাবাজি করাকালে হাতে নাতে ২ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম। এসময় চাঁদাবাজদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চাঁদাবাজির নগদ ২ হাজার ৬শ’ টাকা। গ্রেফতারকৃতরা হলো আব্দুল মান্নানের পুত্র মোঃ মামুন (৩২) ও মৃত দাইবউদ্দিনের পুত্র মোঃ ইয়াসিন (৩০)। র‌্যাব-১১ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁ থানাধীন কাঁচপুর মোড় এলাকায় রাস্তায় চলাচলরত বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিক্সা চালকদের কাছ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক গাড়ী প্রতি ৫০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে আসছে। কোন বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিক্সা চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের মারধরসহ জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে আসছে। গ্রেফতারকৃতরা ওই চক্রের সক্রিয় সদস্য। গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজির সময়ে ২ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ ৭ হাজার ৯শ টাকা উদ্ধার করা হয়। উপজেলার কাজী ফজলুল হক মহিলা ডিগ্রী কলেজের সামনে পাকা সড়ক থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃতরা হলো মৃত সিরাজ পাটোয়ারীর ছেলে মো. দরপন পাটোয়ারী (৪৫) ও মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে মো. আফসার উদ্দীন (৩৬)। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁয়ের কাজী ফজলুল হক মহিলা ডিগ্রী কলেজের সামনে পাকা রাস্তার চলাচলরত ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা ও ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক গাড়ী প্রতি ৫০ থেকে ৩শ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের মারধরসহ জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে। গ্রেফতারকৃতরা ওই চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য। গত ২ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পরিবহন সেক্টরের শীর্ষ চার চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলো আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগ সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী, জাসদ (ইনু) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি এসএম মাসুদ রানা, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহিরুল হক জহির ও ইলিয়াস মোল্লা ইলু। র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন (পিপিএম) জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবত মহাসড়কসহ সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহন চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত। তাই তাদেরকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় শিমরাইল মোড় থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন পরিবহন সেক্টর থেকে ২০ হাজার টাকা ও ফুটপাত থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করতো চাঁদাবাজরা। গ্রেফতার করার সময় এ চার চাঁদাবাজের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল ফোন থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত ৩১ মে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড় থেকে অভিযান চালিয়ে ১৩ জন পরিবহন চাঁদাবাজাকে আটক করে র‌্যাব-১১। এ ঘটনায় ১ জুন র‌্যাব বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া ৪ জনের নাম ছিল। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। গত ২ জুন দিনগত গভীর রাতে শিমরাইল মোড়, কাঁচপুর ও মদনপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৯ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ ১ লাখ ৬ হাজার টাকা ও ১৮ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপউদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি করে আসছে। তারা আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীদের রাস্তায় চলাচলরত সাধারন মানুষকে এবং বাস, অটোরিক্সা, (সিএনজি) ইত্যাদি যাত্রাবাহী পরিবহনে চাঁদাবাজি করে আসছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা নজরধারির প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে মহাসড়কে চাঁদাবাজির সময়ে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো মোশারফ (৩১), শামীম (৩৫), মো. রাব্বাী ওরফে বাবর (৩১), মো. খোরশেদ আলম ইমন (৩৫), মো. কাজী এরশাদুজ্জামান ওরফে এরশাদ (৩৪), আ. কাদের ওরফে সুমন (৩৪), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০), মো. আলমগীর হোসেন (৩২), আ. সালাম (৫০), মো. জিয়াউর রহমান (২৫), মো. মাহফুজুর রহমান (২৫), মো. মহসিন মিয়া (৩০), মো. মুনসুর আলী (৩৮), মো. আরশাদ মোল্লা (৪৭), জহুর আকন্দ (৫২), ওমর ফারুক (৩৩), মো. হুমায়ুন কবির (৩৭), হাসান কাউসার (২৮) ও মোঃ মনিরুল ইসলাম (৩০)। গত ৩১ মে সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় ও সাইনবোর্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে ১৩জন পরিবহন চাঁদাবাজাকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১১। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪৯ হাজার টাকা ও ১৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলো, ঢাকা যাত্রাবাড়ী ২২নং শহীদ ফারুক রোড এলাকার মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে মো. শরিফ (৩০), ঝলকাঠি রাজাপুর দক্ষিণ তারাবুনিয়া এলাকার মৃত সৈয়দ আলমগীল হোসেনের ছেলে সৈয়দ আহসান উদ্দিন ওরফে জুয়েল (৩৬), ময়মনসিংহ কাসাইরাচর এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে জলিল মিয়া (৪২), নারায়ণগঞ্জ পাইনাদী এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে মো. মাসুদ (৩৬), বাগেরহাট কুটিখালী এলাকার মো. হানিফ হাওলাদারের ছেলে মো. সিদ্দিক (২০), বরিশাল আড়াই পাখি এলাকার মো. সাহেব আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৬৩), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা হাটিপাড়া এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩০), পাবনা চকসেলন্দা এলাকার মৃত জুলমত সর্দারের ছেলে সোরাব হোসেন সর্দার (৭০), নারায়ণগঞ্জের মাহমুদপুর এলাকার আবুল হোসেন শিকদারের ছেলে রিপন শিকদার (৩৫), কুমিল্লা নিমতলা ভূইয়া বাড়ির আহসান উল্লাহর ছেলে সাকিল ইসলাম ভূঁইয়া (২৪), সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার মো. বশির উদিদনের ছেলে সোহেল (২৬), নোয়াখালী ঘাটলা এলাকার মো. আবুল কালামের ছেলে মো. মাসুদ ওরফে হাবিব (৩২) ও ফতুল্লার পশ্চিম দেলপাড়া এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে মাহমুদুন নবী অপু (২৬)। র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আলেপ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন থেকে চাঁদাবাজী করে আসছিল একটি চক্র। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড়ে অভিযান চালিয়ে ১৩জন চাঁদাবাজকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। এসব চাঁদাবাজদের গডফাদারদেরও ধরা হবে। পরিবহন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *