শহরে আবারো জুয়ার আসর!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসাবে হারুন অর রশিদ যোগদানের পর পরই জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ৪৯ জন জুয়ারিকে গ্রেফতার করে তোলপাড় ফেলে দেয়। এই জুয়ার আসরের সাথে প্রভাবশালী রাঘববোয়াল থেকে শুরু করে বিশেষ পেশার অনেকে জড়িত ছিল বলে তখন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এই অভিযানের পর পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে জুয়ার আসর বসাত দূরের কথা এইসব জুয়ার আসরে পরক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে যারা লাভবান হবে তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি বিশেষ পেশার কেউ জুয়ার আসর থেকে ফায়দা লুটলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। অথচ ঘটনার কয়েক মাস যেতে না যেতেই সেই মহলটি আবারো জুয়ার আসর বসিয়ে দিব্বি জুয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশের পর যদিও পুলিশ বলছে জুয়ার আসরে তালা লাগানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে পুলিশ সুপারের এই হুমকি দামকির পরও কাদের এতবড় সাহস হলো শহরের প্রাণকেন্দ্রে জুয়ার আসর চালানোর? পুলিশ জুয়ার আসর চালানোর কথা জানেনা এটা নারায়ণগঞ্জবাসী বিশ^াস করতে রাজি নয়। তাছাড়া বিশেষ পেশার যাদের নাম এই জুয়ার আসরের সাথে জড়িত বলে শুনা যাচ্ছে জেলা গোয়েন্দা বিভাগ তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে না পারলে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বিগত ছয় মাসের কর্মকান্ড নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জুয়ার সাথে জড়িত ও সুবিধাভোগিদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে নগরবাসী। জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে জিমখানার ওয়ালটন প্লাজার পাশে একটি দোতলা ভবনে এই জুয়ার আসর চলত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজ্ঞাপন কর্মী জানান, ২ মাস যাবত এই জুয়ার আসর চলে আসলেও হঠাৎ করেই বুধবার রাতে জুয়া বন্ধে তৎপর হয়ে উঠে সদর থানা পুলিশ। যদিও রহস্যজনক কারণে সেই জমজমাট জুয়ার আসর থেকে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। কয়েক মাস আগেও শহরের কালীরবাজার ও ৫নং ঘাট এলাকার ২টি জুয়ার আসর উচ্ছেদ করেছিল পুলিশ। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের এত কঠোর অবস্থানের পরেও কি করে নগর ভবনের কয়েক গজ দুরে গত দুই মাস ধরে এই জুয়ার আসর কিভাবে চলে আসছিলো ? অনেকে বলছেন, শর্ষের মধ্যে ভুত থাকলে পুলিশ সুপারের কি করার আছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ এর নাম ভাঙিয়ে এক শ্রেনীর পুলিশই এই জুয়ার আসর বসানোর অনুমতি দিয়েছে। পুলিশের শেল্টার ছাড়া শহরের উপর এভাবে জুয়ার আসর বসাটা অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা। এদিকে জুয়ার আসরে তালা দিলেও সেখান থেকে মাসোহারা দেয়ার একটি চিরকুট গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে এসেছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় জুয়ার ব্যবসা পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে ঐ চিরকুটটি খোয়া গেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যেখানে প্রশাসনসহ বিশেষ পেশার কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে যারা দৈনিক ভিত্তিতে এইজুয়ার আসর থেকে টাকা নিতেন বা পৌছে দেয়া হোত বলে মনে করা হচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কালীর বাজার ও ৫নং ঘাট এলাকার জুয়া বন্ধ হওয়ার পর জেলার জুয়া ব্যবসার প্রধান হোতা শাহজাহান ওরফে বড় শাহজাহান পুনরায় জুয়ার আসর বসানোর চেষ্টা করে সফল না হওয়ায় এই সুযোগ লুফে নেয় বাস টার্মিনালের জুয়ার আসরের অন্যতম হোতা ছাইয়া, মনির, সাংবাদিক পরিচয়ধারী মিজান ও ছোট শাহজাহান। সূত্র জানায়, বিশেষ পেশার কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে অভয় দেয়ার পর এক পর্যায়ে তারা শহরের জিমখানা এলাকায় নতুন করে জুয়ার আসর বসানোর অনুমতি পায়। নগরীর ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ও নাসিক ভবনের বিপরীতে ওয়ালটন প্লাজার পাশে অবস্থিত অঞ্জন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধিন দোতলা ঘরেই জমে জুয়ার আসর। ঘরটি প্রতিদিন দুই হাজার টাকায় ভাড়ায় নিয়েছে শাজাহান। সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস ধরেই এখানে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। বিষয়টি জানতে পেরে একাধিক গণমাধ্যম কর্মী সেখানে সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা করলেও তাদেরকে সেখানে প্রহরায় থাকা স্থানীয় ক্যাডাররা প্রবেশ করতে দেয়নি। সেখানে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের কয়েকজন জানান, মূলত এই জুয়ার আসরের প্রধান কর্তা ছোট শাহজাহান ও মিজান নামের ২ব্যক্তি। তারা জানান, বুধবার রাতেও প্রায় জুয়ার আসরে প্রায় ৪০থেকে ৫০জন লোক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ছোট শাহজাহানের লোকজন তাদেরকে পুলিশ আসতে পারে বলে জুয়ার আসর ছেড়ে দ্রুত চলে যেতে বলে। এদিকে জুয়ার আসর থেকে প্রাপ্ত একটি চিরকুটে ১৭টি নাম ও খাতে প্রতিদিন টাকার যে হিসাব দেখা গেছে তাতেই প্রায় ১৭হাজার টাকার হিসাব পাওয়া গেছে। সূত্র বলছে, এটি আংশিক হিসাব। অপরদিকে জুয়ার আসরটি নিয়ে শহরবাসীর মাঝে চরম বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা বলছেন, জুয়ার আসর উচ্ছেদ করে ঢালঢোল পিটিয়ে গণমাধ্যমে বলা হল। কিন্তু এখন পুলিশের তরফ থেকে বুধবারের জুয়ার আসরের অভিযান নিয়ে নীরবতা নগরবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। শহরবাসীর দাবী, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন জায়গায় এত বড় জুয়ার আসর চলতো একথা কেউই বিশ^াস করবে না। পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের উচিত এই জুয়ার আসরের অনুমতি কারা দিল, কারা পরিচালনা করতো এবং কারা কারা জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত বখড়া পেত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা। এব্যপারে সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, জিমখানা ওয়ালটন প্লাজার পাশে জুয়ার আসরটি আমরা তালা লাগিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে নগরবাসী প্রকৃত জুয়ারি এবং এ থেকে সুবিধাভোগকারীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের কথার উপর আস্থা রাখতে পারছে না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *