সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে বক্তাবলীতে মাদক ব্যবসা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
মাদকের কড়াল গ্রাসে আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলি। দিন দিন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কিশোর, যুবক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। তবে কিছু সোর্স এসব মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় মাদক বিক্রি করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বক্তাবলী মাদক নির্মূল কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রেতাদের মাদক বিক্রি করতে সহযোগিতা করছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, বক্তাবলীতে মাদক বিক্রেতারা এতই সুসংগঠিত যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভোটের কথা বিবেচনা করে মাদক নির্মূলে কঠোর ভুমিকা নিতে পারছেন না। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে পুরো বক্তাবলী ৫০ জন মাদক সম্রাট প্রায় শতাধিক সহযোগী নিয়ে মাদক ব্যবসা করছে। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ৫০ মাদক বিক্রেতার গডফাদার হচ্ছে রামনগর গ্রামের মৃত ছাবেদ আলীর পুত্র রহিম বাদশা। যিনি গত বছর পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছিল মাদক বিক্রি করবেনা। পুলিশের হাত থেকে হয়রানি যেন না হয় সেজন্য সরকারী দলের একজন অঙ্গ সংগঠনের নেতা দিয়ে নাটক সাজিয়ে ছিল। রহিম বাদশা বক্তাবলীর মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে গোপালনগরের মৃত ছায়েদ আলীর পুত্র ইদ্রিস আলী। এই ইদ্রিস আলীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত মধ্যনগরের মৃত সেকান্দারের পুত্র হালিম ও চর ছমিনগরের তাইজুলের পুত্র ডাকাত রতন। এর পরই রয়েছে রামনগর গ্রামের মৃত মিন্নত আলীর পুত্র হবুল, শরীয়ত উল্লাহ পুত্র জাকির হোসেন, মৃত লাল চানের পুত্র মোঃ হোসেন, মেন্দা জাকিরের পুত্র ওসমান, সাহাবুদ্দিনের পুত্র বাদশা,আব্দুল আওয়ালের পুত্র জসিম উদ্দিন, আছমতের পুত্র কানা আজিজ, কছিমুদ্দিন কইচ্ছা,লক্ষীনগর গ্রামের মৃত জমশের আলীর পুত্র আছান মিয়া, একই গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন, মৃত ফজল সরদারের পুত্র তৌহিদুল, বাচ্চুর পুত্র রবিউল ও রাসেল, নুরা মিয়া ফকিরের পুত্র মরা মোক্তার, কলিমউল্লাহ’র পুত্র রুবেল, হযরত আলীর পুত্র আলমগীর, আতাউল্লাহর পুত্র ইব্রাহীম, জমশেরের পুত্র মানিক, মুসলিম মিয়ার পুত্র আনোয়ার হোসেন, কানাইনগর গ্রামের হাবিজউদ্দিনের পুত্র শরীফ, একই এলাকার সোনা মিয়ার পুত্র দাদন ওরফে ডিলার দাদন, গংঙ্গানগর গ্রামের রহম আলীর পুত্র হানিফা, একই গ্রামের লালু কসাইয়ের পুত্র স্বপন, শাহজাহানের পুত্র মনির হোসেন, রাজাপুর গ্রামের মালেকের পুত্র অলি, একই এলাকার আহম্মেদের পুত্র মতিন, হজিবলের পুত্র শফিক, প্রসন্ননগর গ্রামের জয়নাল ফকিরের পুত্র হোসেন (রহিম বাদশার সহযোগী), মিজান, গোপালনগর গ্রামের মৃত ইউনুস চেরকীর পুত্র কানা বাবুল, মৃত ইলিয়াছের পুত্র মাউচ্ছা জাকির, মৃত বারেক প্রধাণের পুত্র আওলাদ হোসেন, একই এলাকার আলীর পুত্র মাসুদ, মৃত চান মিয়ার পুত্র আব্বাস, মধ্যনগর গ্রামের মৃত করিম মালের পুত্র শহীদ, চর বয়রাগাদী গ্রামের মৃত মোহর আলীর পুত্র দেলোয়ার হোসেন, মৃত দুখাই মিয়ার পুত্র শহীদ, মধ্যনগর গ্রামের মানিক কসাইয়ের পুত্র আমান ও জামান, রফিকুলের পুত্র শান্ত ও একই এলাকার মো.আনিস, চর প্রসন্ননগরের মনসুর আলীর পুত্র সফিক, কানাই নগর পশ্চিম এলাকার জামাল, চর বয়রাগাদী এলাকার মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে মনজুর, প্রসন্ন নগর গ্রামের আমিন উদ্দিনের পুত্র আব্দুল ও ছমিরনগর গ্রামের বাদশা উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে মতিন ও রাসেল ফতুল্লা মডেল থানার সোর্স হিসেবে কাজ করে। তারা মাদক ব্যবসার পাশাপাশি নিরীহ লোকদের হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বক্তাবলী ইউপি চেয়ারম্যান হাজ্বী শওকত আলী বলেন, আমি মাদকের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা আইন শৃংখলার মাসিক সভায় বহুবার বলেছি। কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা তা বোধগম্য নয়। এলাকার যুব সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। মাদকের কারনে এক সময় বক্তাবলী মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। আমরা রুটিন মাফিক বক্তাবলীতে অভিযান চালাবো।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *