বন্দর উপজেলায় নবনির্বাচিতদের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান কোন চেয়ারম্যান মেম্বার বিচার ব্যবসায়ী হবেন না

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
পুরনোদের বিদায় সংবর্ধনা এবং নব নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানানোর মধ্য দিয়ে উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় সাবেক এবং নবনির্বাচিতরা একে অপরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াই উপজেলা প্রাঙ্গনে ঝাকজমক পূর্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা এবং কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহনের সময় নবনির্বাচিত সকলেই আগামীতে পুরনোদের সাথে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে বন্দরের উন্নয়নে সম্মিলিত ভাবে কাজ করবেন বলে ওয়াদা দেন। বন্দর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান বলেন, যারা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তাদের সবাইকে নিজেদের জনগনের গোলাম মনে করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়নের পক্ষে সবাইকে একমত থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন মানে আমাদের বন্দরের উন্নয়ন। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধি হাত তুলে অতীতের মত ভবিষ্যতেও সম্মিলিত ভাবে বন্দরের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী রবিবার নাসিকের বাজেট অনুষ্ঠানে এমপি সেলিম ওসমান যোগ দিবেন কিনা এ ব্যাপারে উপস্থিত কয়েকজন কাউন্সিলর তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি কাউন্সিলদের কাছে পাল্টা জানতে চান সিটি কর্পোরেশন থেকে কি ধরনের বাজেট হবে সে ব্যাপারে কাউন্সিলরদের সাথে প্রাক বাজেট আলোচনা হয়েছে কিনা। বাজেট সম্পর্কে কাউন্সিলরা কিছু জানেন কিনা। এ সময় কাউন্সিলরা জানান তাদের সাথে এ বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন বাজেট সম্পর্কে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমি নিশ্চিত হয়েছি বাজেট করার পূর্বে প্রাক বাজেট নিয়ে কাউন্সিলদের সাথে কোন আলোচনা হয়নি এমনকি কোন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অথবা এলাকার মানুষ কেমন বাজেট চায় এ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সদর-বন্দর ও ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ দু’জন সংসদ সদস্য সম্পৃক্ত রয়েছে। ২০১৭ সালে সিটি কর্পোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ এর সভাপতি হিসেবে আমি সেচ্ছায় সেখানে গিয়ে ছিলাম। মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী আমাকে মঞ্চে তুলেছেন। এবারেও উনি আমাকে সম্মানের সাথে দাওয়াত দিয়েছেন টেলিফোনে কথা বলেছেন দাওয়াত দিয়েছেন আমি দাওয়াত গ্রহন করেছি। আমি মেয়রকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করে ছিলাম। কিন্তু কার্ডে নাম দেখে আমি আশ্চার্য হয়েছে। বাজেট অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয়না তাই আমি সম্মতি দেইনি। কিন্তু কেন যেন আমার কাছে মনে হয়েছে এখানে একটি সূক্ষ্ম রাজনীতি রয়েছে। বাজেট অনুষ্ঠান নিয়ে কোন রাজনীতি কাম্য নয়। আমি আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি যাতে করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দাদের জন্য একটি সুন্দর বাজেট হয়, যেখানে সিটি কর্পোরেশনবাসীর কোন দুর্ভোগ থাকবে না। আমি দোয়া করি আল্লাহ মেয়রের সহায় হোক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোন অবস্থায় যেন কোন চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা বিচার ব্যবসায়ী জড়িয়ে না পড়েন। ব্যক্তিগত ভাবে কেউ বিচার করতে পারবেন না। এলাকায় কোন সমস্যা হলে নিজ নিজ কার্যালয়ে সকলের উপস্থিতিতে আপোষ করতে পারেন। বন্দরের ভবিষ্যত উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারগন নিজ নিজ এলাকায় কোথায় কি সমস্যা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করবেন। পরবর্তীতে সেটি উন্নয়ন কমিটির সভায় আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও উন্নয়ন কমিটিতে আমার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবেন বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। ভবিষ্যত প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বেশি করে খেলাধূলার আয়োজন করতে বলেন। প্রতিটি ইউনিয়নে মাসে দুটি করে টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে। সেটি ফুটবল, ক্রিকেট, বলিবল যেকোন খেলা হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা যেতে পারে। তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিশেষে তিনি বলেন, বর্তমানে শহরে বঙ্গবন্ধু সড়কটি সম্পূর্ন ভাবে হকারমুক্ত রয়েছে। মীরজুমলা সড়কটিও দখল মুক্ত করা হয়েছে। এমন সাহসী উদ্যোগের জন্য আমি আগেও পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানিয়েছি আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অতীতে আমাদের যে সকল ছোট খাট ভূল গুলো রয়েছে সেগুলো শুধরে ভবিষ্যতে আমরা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সকলে সম্মিলিত ভাবে কাজ করে যাবো। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন এলাকায় কোন কিছু করার এখতিয়ার যদিও আমার নাই। এরপরেও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ যদি আমার সহযোগীতা চান তাহলে আমি যেকোন ধরনের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত আছি। উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সদর ও বন্দর থানার আওতাধীন ১৭টি ওয়ার্ড সদর-বন্দর আসনের আওতাধীন। বাকি ১০টি ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় যেটি সংসদীয় আসন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এর আওতাভুক্ত। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ, ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা বেগম শান্তা, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ সহ সকল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *