অবৈধ পশুর হাট নিয়ে কঠোর হুশিয়ারী পুলিশ প্রশাসনের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো ও চাঁদাবাজী করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারী দেয়ছেন জেলা পুলিশ প্রশাসন যারা ইতোমধ্যে শহরের ফুটপাত মুক্ত রাখা, যানজট নিরসন, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস নির্মূল, চাঁদাবাজী, দখলদারী, ভূমিদস্যু সহ বিভিন্ন অপরাধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) নূরে আলম এ হুশিয়ারী দেন। যে সভায় সভাপতি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যুথিকা সরকার, র‌্যাবের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক প্রমুখ। সভায় বক্তব্যে এএসপি নূরে আলম বলেন, আসন্ন কোরবানীর ঈদ হবে শান্তিপূর্ণ। পুলিশ সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে কোরবানি পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেখা হবে না। কেউ জোর করে পশুর হাট বসাবে কিংবা পশুর হাটে চাঁদাবাজী করলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক, ভূমিদস্যূ সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ নির্মূলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশের অভিযানের সোয়া লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে, র‌্যাবের অভিযানেও উদ্ধার করেছে কিন্তু মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন কি কাজ করছে। তারা কেন ধরতে পারছে না। কথা বললেই বলেন লোকবল নেই। পুলিশ আপনাদের সহযোগিতা করবে। আপনার মাদকের বিরুদ্ধে আরো জোরালো অভিযান শুরু করুন। সভায় উপস্থিত অন্যদের বক্তব্যে প্রেক্ষিতে নূরে আলম বলেন, শহরের হকার মুক্ত করা, অযথা রাস্তার মধ্যে ডিভাইডার কাটা রেখে দিয়ে যানজট সৃষ্টি করা, সেই কাটা বন্ধ করা, ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার করা এসবই করছে পুলিশ। কিন্তু হকার উচ্ছেদ, রাস্তার ফাঁকা বন্ধ, ভুয়া ডাক্তারের বিষয়ে অভিযানের জন্য প্রত্যেকটা আলাদা দপ্তর রয়েছে। যেমন ভুয়া ডাক্তার ধরবে সিভিল সার্জন, রাস্তার অযথা ফাকা বন্ধ করবে সড়ক ও জনপদ, হকার উচ্ছেদ করবে সিটি করপোরেশন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করবে মাদক দ্রব্য নির্মূল অধিদপ্তর। কিন্তু কেউ কি ঠিক মতো কাজ করছে?। তারপরও জনগনের সেবার কথা চিন্তা করে পুলিশ নিজেদের কাজের পাশাপাশি সব কাজই করে যাচ্ছে। আগে নিজের জায়গা থেকে কাজ করুন। তবেই নগর আরো সুন্দর হবে। পুলিশ সব সময় সকালের পাশে আছে ও থাকে।’ তিনি বলেন, হকাররা আন্দোলন করছেন সেটা আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু এখনই কোন সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব না। কারণ পুলিশ সুপার ছুটিতে আছেন। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন। তবে হকাররা কেন বঙ্গবন্ধু সড়কে বসতে চায়। হকার না থাকায় নগরবাসীর জন্য উপকার হয়েছে। মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার হকারের জন্য কয়েক লাখ বাসিন্দাদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারি না। তিনি বলেন, হকাররা শহরের সংযোগ সড়কগুলোতে বসছে কিন্তু তাতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। আর সেসব জায়গায় তারা বিক্রিও করছে বলো। হকার যেখানে বসবে ক্রেতারা সেখানেই যাবে। এটাই ব্যবসার নিয়ম। যখন আমার কোন কিছু প্রয়োজন আর সেটা কম টাকায় কিনতে হকারদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন তখন সেটা যে জায়গায় হোক আমি ঠিকই যাবো। তাই হাকারদের এ ধরনের দাবি যুক্তিযুক্ত নয় যে তারা বঙ্গবন্ধু সড়কে না বসলে ব্যবসা হবে না। কোন সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত হকার ফুটপাতে বসতে পারবে না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *