পুলিশ সুপারকে বির্তকিত করতে চায় কারা?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নিজের কর্মতৎপরতায় মাত্র দুই মাসে যিনি সিংহাম উপাধী পাওয়ার পাশাপাশি ঢাকা রেঞ্জে ৫ বারের মত শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার মনোনিত হয়েছেন সেই পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে বির্তকিত করতে একটি মহল গোপনে কাজ করছে বলে নারায়ণগঞ্জবাসীর ধারণা। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কর্মকান্ডে সাংসদ সেলিম ওসমান, সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী সমর্থন জানিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতকে দখলমুক্তসহ মীর জুমলা সড়ক চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্ত করে যান চলাচলের উপযোগি করে তুলেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন অনেক রাঘববোয়ালকে গ্রেফতারসহ মামলা দায়ের করেন। কোন পুলিশ সুপার যা পারেনি, সেই দেওয়ান মঞ্জিলকে আজমেরী ওসমানের হাত থেকে মুক্ত করেন। শুধু তাই নয়, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে থানা গুলিতে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যদিও বিসিকের ভ’মি দস্যুদের ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ ফতুল্লায় চাঁদাবাজি এখনো চলছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, পুলিশ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা গোপনে গোপনে পুলিশ সুপারকে বির্তকিত করার মত কাজ করে চলেছে। যাদের অনেককেই পুলিশ সুপার নিজের বিশ^স্ত বলে মনে করছেন। এ প্রশ্ন উঠেছে এ কারণে যে, নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘ দিনের জুয়ার আসর উচ্ছেদ ও পাগলা মেরি এন্ডারসনে অভিযান চালিয়ে হারুন অর রশিদ শুধু সফলতাই পারনি বরং নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে আস্থা সৃষ্টি করেছেন। সেই আস্থায় চিড় ধরতে শুরু করেছে। নগর ভবনের উল্টোদিকে গত দুই মাস যাবত সেই শাহজাহান গং অনেকটা প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চালিয়ে যাচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তা জানতো না এটা নারায়ণগঞ্জবাসী বিশ^াস করতে রাজি নয়। অভিযোগ রয়েছে, এই জুয়ার আসর থেকে পুলিশ নিয়মিত বখড়া নিত। পাশাপাশি নামধারী কিছু সাংবাদিক প্রতিদিন জুয়ার আসর থেকে নগদ নারায়ণ পেত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার যারা সাংবাদিকতার নামে এই জুয়ার আসর থেকে প্রতিরাতে টাকা আনত তারাই আবার বোস কেবিনে বসে জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য রাখত। নাম পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, সদর থানাসহ অনেকেই এই জুয়ার আসরটি সম্পর্কে অবগত ছিল। তারাসহ ২১ জনের মত কথিত সাংবাদিক জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত বখড়া পেত। জিমখানার জুয়ার আসরটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বুধবার রাতে সদর থানার ওসি তালা ঝুলিয়ে দেয়। প্রশ্ন হল, নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং মীর জুমলা সড়ক, সায়েস্তাখান সড়ক, সিরাজদৌল্লাহ সড়ক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দ্দী সড়কসহ রেল লাইনের দুই পাশে উচ্ছেদ এবং চিহিৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পর যে প্রসংশা এসপি হারুন অর রশিদ নগরবাসীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন জিমখানায় জুয়ার আসর সেই প্রশংসাকে অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। নগরবাসী মনে করে কারা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে বির্তকিত করতে চাইছে তাদের চিহিৃত করার জন্য তার নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে তদন্তসহ এই জুয়ার সাথে কোন কোন পুলিশ ও কথিত সাংবাদিকরা জড়িত তা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নিজের ইমেজ রক্ষার্থে জরুরীভাবে এইসব ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *