শহরকে অস্থির করার পায়তারা বামদের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আবারও সংগঠিত হতে শুরু করেছে হকাররা। হকারদের অন্যত্র বসার সুযোগ থাকা স্বত্বেও জোড়পূর্বক বঙ্গবন্ধু সড়কে বসতে চেষ্টা চালিয়ে হকারনেতারা। আর এই চেষ্টায় সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু। গত বছর হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংঘর্ষের আগ পর্যন্ত আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে আসছিলেন বাম নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে মেয়র আইভীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর তাদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় বাম নেতারা। তখন শামীম ওসমানের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের আড়াল করতে চাচ্ছিলেন তারা। অথচ সংঘর্ষের ১ দিন আগ পর্যন্তও আন্দোলনে সাথে সার্বিকভাবে যুক্ত ছিলেন তারা। নতুন করে এসপি হারুন অর রশিদের কঠোর পদক্ষেপের পর হকাররা বসতে সাহস পায়নি। বেশ কয়েকবার একত্রিত হয়ে শামীম ওসমানের কাছে গিয়ে সহায়তা চাইলে শামীম ওসমান তাতে না করেছেন বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়। ফলে পেছনে কোন সহায়তা না থাকায় নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে গুছিয়ে উঠতে পারছিলেন না তারা। তবে বৃহস্পতিবার হটাৎ করেই নিজেদের সংগঠিত করে আন্দোলনে নামে হকাররা। এসময় হকার নেতাদের সাথে একাগ্রতা প্রকাশ করে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু সহ বেশ কিছু শ্রমিক নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তারা। এসময় ডিসি জসিম উদ্দিন বলেন, এসপি নারায়ণগঞ্জ এলে তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। নতুন করে হকারদের আন্দোলনে বাম নেতাদের জড়িয়ে যাওয়ায় খোদ বামপন্থীরাই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ২০১৮ সালে হকারদের উদ্ধত আচরণ ও ফূটপাত গনদখলের কাজ মোটেও সমর্থন যোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন। শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই নতুন করে মাঠে নেমেছেন এসকল বাম নেতারা। জেলা বাসদ সমন্বয়ক নিখিল দাশ জানান, হকারদের চলমান আন্দোলনের সাথে বাসদের কোন সমর্থন নেই। বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখল করে হকারি ব্যাবসা মোটেও সমর্থন যোগ্য নয়। নতুন করে তারা যেই আন্দোলন শুরু করেছে তার সাথেও আমাদের সম্পৃক্ততা নেই। তবে তাদের পুনর্বাসন হোক এটি অবশ্যই দাবী থাকবে আমাদের তরফ থেকে। এসময় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জাহাঙ্গীর আলম গোলকের আন্দোলনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, তিনি সেখানে গিয়েছেন কিনা তা আমি মাত্র জানলাম। আমাদের জানিয়ে তিনি আন্দোলনে যাননি। যদি আমাদের সমর্থন থাকতো তবে আমি অথবা আবু নাইম খান বিপ্ল¬ব উপস্থিত থাকতেন। তিনি এখানে ব্যাক্তিগত ভাবেই উপস্থিত হয়েছেন বলে ধারণা করছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, কতিপয় বাম নেতাদের এমন স্ববিরোধী অবস্থান হকার ইস্যুকে নতুন করে সামনে টেনে আনছে। পূর্বের ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারও হকারদের নিয়ে এই রাজনীতির যেকোন মোড়ের দায় এরা এরাতে পারেন না। সুতরাং হকারদের সাথে যারা আছেন এবং যারা নেই উভয়কেই চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এবং এর থেকে যে সকল সমস্যা সামনে এসে দাঁড়াবে তার দায়ও তাদের বহন করতে হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *