হাফিজুলের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বাম নেতারা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার উচ্ছেদ ও পুনরায় বসার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সিপিবির জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। ইতোপূর্বে হকার আন্দোলনে বাম জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে পাশে পেলেও এবার তাদেরই রোষানলে পড়েছেন তিনি। গত রবিবার নাসিকের বাজেট অনুষ্ঠানে হাফিজুল ও তার অনুসারী জাহাঙ্গীর আলম গোলক এবং আবু হাসান টিপুর উপর ক্ষোভ ঝাড়েন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর দুর্ভোগকে উপেক্ষা করে গুটিকয়েক হকারের পক্ষে নেমেছেন গুটিকয়েক বাম নেতা। তারা যখন যা চেয়েছে আমি তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আজ তারা নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষে না দাঁড়িয়ে যারা আমাকে রাস্তায় ফেলে আহত করেছে তাদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। ধিক্কার জানাই তাদের এমন কর্মকান্ডে। তিনি হকারদের নেতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘রহিম মুন্সি কোন গরীব হকার নয়। তার ৫ তালা বিল্ডিং আছে। আর এখানে এসে দেখায় যে তাদের কিছুই নেই। তারপরেও শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু সড়ক বাদ দিয়ে বসতে বলা হয়েছিলো তা তারা মানতে রাজি না। কি মধু এই সড়কে জানতে চাই। কার আশ্রয় প্রশ্রয়ে এই সড়কে যানজট তৈরী করতে চায় তারা ?’’ মেয়রের এমন বক্তব্যের পর স্বভাবতই হাফিজুলের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাম জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা। দীর্ঘদিন মেয়রের সাথে গড়ে ওঠা সুসম্পর্ক হাফিজুলের কারণে ফাটল ধরা শুরু হয়েছে। তার একক কর্মকান্ডের ফলে পুরো বাম জোট নেতিবাচক রূপে আবির্ভূত হয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে। এ প্রসঙ্গে বাসদের জেলা সমন্বয়ক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের জেলা আহবায়ক নিখিল দাস বলেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট মূলত রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যানারে একটি জোট। হাফিজুল ইসলামের অবস্থানের বিষয়ে আমরা আগেও বলেছি এটি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত অবস্থান। এই হকার ইস্যুতে জোটের আন্দোলনের সম্পর্ক নেই। তবে মেয়রের সাথে অনেক বাম নেতাদের ভালো সম্পর্ক থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে তার জন্যে মেয়রের স্বাভাবিক সম্পর্ক বাধাপ্রাপ্ত হবে না। একই সুরে জোটের অন্যতম নেতা ও জেলা গনসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল সুজনের সাথে বেশ কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন।  গণসংহতি আন্দোলনের অপর এক নেতা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, হাফিজুল ইসলাম হকারদের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে শহরবাসীর মাঝে বাম ধারার নেতাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরী হয়েছে। তার অবস্থান এবং অন্যান্যদের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিৎ। তার একার সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্যরা দায় নিতে রাজি নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নাসিক মেয়রের পূর্ব ঘোষণা দিয়ে এসপি হারুন অর রশিদ যেভাবে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। কোন অবস্থাতেই হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কে যাতে বসতে না দেয়া হয় সেই দিকে সকলের লক্ষ রাখা উচিৎ। অন্যথায় পুনরায় হকারদের মাধ্যমে শহরে অরাজকতা ফিরে আসবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *