আ’লীগের কমিটি গঠনে এমপিদের প্রভাব থাকছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী  ১৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের থানা কমিটিগুলো পুনর্গঠন। ১৬ জুলাই রূপগঞ্জ ও ১৯ জুলাই আড়াইহাজার থানার সম্মেলন হবে। এর এ সম্মেলন নিয়ে শুরু হয়েছে মেরুকরণ। তবে এবারও এ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এমপিদের প্রভাব রয়ে যাচ্ছে। সবশেষ গতকাল সোমবার হয়েছে আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা যেখানে ছিলেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে আব্দুল মোতালিবকে সভাপতি ও শাজাহান ভূইয়াকে সাধারন সম্পাদক এবং এনামুল হক ভূইয়াকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের কমিটি হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে পুরানো কমিটির কয়েকজনকে সংযোজন ও বিয়োজন করে আবারো নতুন কমিটির ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আব্দুল মোতালিবকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০০৪ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। এর পরে দীর্ঘ প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ভারমুক্ত হতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও কোন্দলের কারণে কমিটি করা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। এদিকে আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগ কমিটির জন্য ২০০৪ সালের ১১ মার্চে মো. শাহজালাল মিয়াকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেয়া হয়েছিল জেলা কমিটির কাছে। কিন্তু বিগত প্রায় ১৫ বছরেও এই কমিটির অনুমোদন মিলেনি। যার সূত্র ধরে ১৫ বছর ধরেই এখানকার আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এখানকার বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা হচ্ছেন স্বঘোষিত। ১৯৯৭ সালে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের বাবা আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও আব্দুল হাই ভূইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যে বিশিষ্ট সোনারগাঁ থানা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সভাপতি আবুল হাসনাত ও সিনিয়র সভাপতি মোশাররফ হোসেনকে নিজ নিজ পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। তাদেরকে সরিয়ে অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত তিনি আর ভারমুক্ত হতে পারেননি। একই সাথে ২০১৪ সালে সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই ভূইয়া মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে মাহফুজুর রহমান কালামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনিও এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্তই রয়েছেন। একইভাবে ফতুল্লা থানার সভাপতি সাাইফউল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী নেতৃত্ব আকড়ে থাকার কারণে নতুন কোনো নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে তাদের দলীয় কার্যক্রম। ছাড়া ২০০৪ সালে এম এ রশিদকে সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে বন্দর থানা আওয়ামী লীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুরশীদ আলম সাগরকে বাদ দিয়ে আবেদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময়েও সাধারণ সম্পাদককে ভারমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ১৩ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় থানা কমিটিগুলোর সম্মেলন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এতে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন এমপিরা হস্তক্ষেপ করে কমিটি নিজেদের অনুকূলে নিতে চাইছেন। বিপরীতে সভায় উপস্থিত এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বলেছেন, যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগার তাদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। বিএনপির সময়ে আঁতাত করবেন আর এখন আওয়ামী লীগের পদ নিবেন সেটা হবে না। এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সম্মেলনে রূপগঞ্জ থানা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেখানকার এমপি ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রভাব থাকবে। একই অবস্থা হবে আড়াইহাজারের ক্ষেত্রে। সেখানেও এমপি বাবু হস্তক্ষেপ করবেন। বন্দর থানা ও ফতুল্লা থানা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এমপি শামীম ওসমানের পছন্দের লোকজনদের ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেভ। জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের থানা কমিটিগুলো আটকে গেছে। অথচ টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। আর এই দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ তাদের থানা কমিটিগুলো নবায়ন করতে পারেনি। আওয়ামীলীগ দীর্ঘ মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় থাকার পরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের থানা কমিটিগুলোতে গতি ফিরেনি। একের পর এক দলীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই তাদের দিনকাল অতিবাহিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ আগের করা কমিটি দিয়ে চলছে থানা কমিটিগুলোর কার্যক্রম। আর এসকল কমিটিগুলো সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আবার কোনটির ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে বছরের পর বছর। ফলে ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ গতি ফিরে পাচ্ছিল না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *