ফতুল্লায় পানিবন্দী আট গ্রামের মানুষ

ফতুল্লা প্রতিনিধি
কয়েক ঘন্টা বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে ড্রেন আর রাস্তার পাশে ফেলা ময়লা আবর্জনাও! গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ফতুল্লার চৌধুবাড়ি, লালপুর, পৌষার পুকুরপাড়, টাগারপাড়, আলামীন বাগ, গাবতলী, কেতালের বাগ এলাকার প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা। সকাল সন্ধ্যা এ পানি মাড়িয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকার রাস্তাঘাট বর্ষা মৌসুম ছাড়াই সারা বছরই থাকে পানির নীচে। আর বর্ষা আসলে এ এলাকাবাসীর ভোগান্তি দ্বিগুণ হয়ে দাড়ায়। আর এ জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকার পাঁচ হাজার লোক এ জলাবদ্বতার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এ এলাকার স্থানীয় জনগণ। তাদের অভিযোগ যত্রতত্র কোনরকম পরিকল্পনা ছাড়াই গড়ে উঠছে চারতলা/পাঁচতলা হাইরাইজ(সুউচ্চ)বিল্ডিং। এতে করে খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপ্রতুল। অথচ ফতুল্লার ভুক্তভোগী ৪ নং ওয়ার্ডে ফতুল্লা তিন চেয়ারম্যানের বসবাস। সাবেক কলাগাছিয়া বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান,বক্তাবলী পরগণার চেয়ারম্যান শওকত আলী এবং ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ লুৎফর রহমান স্বপন। কিন্তু তিন চেয়ারম্যানদ্বয়ের বাড়ির সামনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতই নাজুক যে একটু সামান্য বৃষ্টি হলে ড্রেনের ময়লা দূষিত পানি তাদের বাসার ভিতরে ঢুকে এবং তা এক-দু’দিনের জলাবদ্ধতার স্থায়ী রুপ নেয়। লালপুর এলাকার বাসিন্দা মনু হাজী জানান, ‘অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’। ফতুল্লার এই এলাকাগুলো অত্যন্ত অবহেলিত। কোনো উন্নয়ন নেই। দায়িত্ব নেয়ার নামে আছে কিন্তু কাজে আসতে দেখি না কাউরেই। পয়নিস্কাশন বর্জ্য মিশ্রিত, নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে তলিয়ে থাকা রাস্তাগুলো দিন দিন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। লালপুর,টাগারপাড়, পৌষারপুকুরপাড় পর্যন্ত সকল রাস্তা দূর্গন্ধযুক্ত পানিতে ডুবে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচল দিন দিন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সময় মতো রিকশা ভ্যান বা অন্য কোন ধরনের যানবাহন পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। এদিকে ময়লা ও দূষিত পানি মাড়িয়ে নিয়মিত চলাচলে স্থানীয়দের চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। পৌষার পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী বিউটি বেগম জানান, ঘর থেকে বের হলেই ময়লা পানি পারাতে হয়। সবসময় তো আর রিক্সা পাওয়া যায় না। পেলেও ভাড়া চায় দ্বিগুণ। তাই বাধ্য হয়েই এ পঁচা পানি দিয়েই চলাচল করতে হয়। হাত পায়ে চুলকানি ঘা হয়ে যাচ্ছে। আর দূর্গন্ধ তো আছেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন ডাইং এর পানির কারনে জলাবদ্বতার বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। পানি নিস্কাশনে ২ টি পাম্প পূর্বে চালু থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ আছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *