কাঞ্চনে হত্যা মামলার আসামী মেয়র প্রার্থী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নির্বাচনে একাধিক খুনের মামলার আসামীকে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মেয়রপদে নির্বাচিত হতে অভিযুক্ত কাঞ্চন পৌর যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক ও তার লোকজন এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার তৎপরতায় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রার্থী ও সাধারণ জনসাধারণের মনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। এ পৌরসভায় বিএনপি দলীয় প্রার্থী না থাকলেও বর্তমান মেয়রসহ অপর তিন প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। আগামী ২৫ জুলাই কাঞ্চন পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ভোট গ্রহণের তারিখ। এদিকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ নির্বাচনে কাঞ্চন পৌর যুবলীগের সভাপতি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা, কাঞ্চন পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত সাবেক মেয়র কাঞ্চন পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ও জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আইনজীবী আমিরুল ইসলাম ইমন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। নির্বাচন কমিশনে মেয়রপদে প্রার্থীদের হলফনামায় দাখিল তথ্য ঘেঁটে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী কাঞ্চন পৌর যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। এর হত্যাসহ দুটি মামলা বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষীগ্রহণের পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে। অপর দুটি মামলা নিস্পত্তি ও খালাস দেখানো হয়েছে। হলফনামায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন ‘স্বশিক্ষিত’। পেশার বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন, ‘ইন্সপায়ার প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ পরিচালক। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। রূপগঞ্জ থানার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়ার টেক এলাকায় রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন দা দিয়ে মোক্তার হোসেনকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করে। মোক্তার হোসেন হত্যা মামলায় রফিকুল অভিযোগ ভুক্ত আসামী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া রফিকের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৬ আগষ্ট রাতে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পূর্বপাড়ার বাড়ীতে তাঁর মায়ের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় রাসেলকে। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা শামসুন্নাহার নীলাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ওই মামলায়ও রফিক অভিযোগ ভুক্ত আসামী। আজো নীলা বেগম ছেলে হত্যার বিচার পাননি। রফিকুলের বাবা মৃত হারুন মিয়া শ্রমিক ছিলেন। রফিক নিজেও শুরুতে তাঁতের কারখানায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। পরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মানুষের জমি বালুসহ নানাভাবে সে অবৈধ কোটি কোটি টাকার মালিক হন। রফিকের অপর ৪ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক, জমি দখল,অস্ত্র কেনাবেচা চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। রফিকুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছাড়াও নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে অর্ধ শতাধিক সাধারণ ডায়েরী আছে। ‘ফাইভ স্টার‘ সিন্ডিকেট চক্র নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধান রফিক। ২০১৪ সালের ২৮ জুন বিগত কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন রফিক। নির্বাচনের দিন সকালে রফিক ও তার লোকজন ভোট কেন্দ্রে সহিংসতা চালালে এতে সুকমল নামে এক ভোটার নিহত হন। এবারের নির্বাচনেও রফিক ও তার লোকজন প্রভাব বিস্তার ও সহিংস ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা ভোটারদের। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রচার-প্রচারণায় কোন বাধা পাচ্ছি না। ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। হত্যা মামলা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের গ্রুপিংয়ের কারণে রাজনৈতিকভাবে তাকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ কারণে নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বে না। গত নির্বাচনে পরাজয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তুতি না থাকায় ওই নির্বাচনে হেরেছিলাম। এবারের নির্বাচনে মোট ভোট প্রাপ্তির ৭৫ শতাংশ ভোট তিনি পাবেন বলে দাবি করেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *