শহর যেন ময়লার বাগার!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দিনকে দিন সিটি করপোরেশন অধিভুক্ত এলাকায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু যে মহল্লার মধ্যে তা নয়, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কের পাশেও ছোট ছোট ময়লার ভাগাড়ের পরিণত হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এসব ভাগাড় থেকে আবর্জনা পরিস্কার করতে একটু বিলম্ব করলেই অস্বস্ততি পড়ে যান ওই এলাকার বাসিন্দারা। সিটি করপোরেশন এলাকার পাশ ঘেষে জালাকুড়ির লিংক রোড, শিবু মার্কেট, মাসদাইর ঘেঁষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক, চাষাঢ়া রেললাইন, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ শহরের অলিগলি সবখানেই ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, বন্দর থানার কদমরসুল ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে এ করপোরেশন নিয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এ সিটি করপোরেশনের ৭২.৪৩ বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। শিল্পকারখানা আছে ২ হাজার ৬০২টি। অথচ এত লোকের, এত কলকারখানার বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় নগরজুড়েই ময়লা-আবর্জনা। দূষিত হচ্ছে নদীও। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ যেন এক আবর্জনার শহর। সামান্য বৃষ্টিতেই নারায়ণগঞ্জ রূপ নেয় আসল চেহারায়। বর্ষার দিনে অনেক রাস্তা ময়লা পানিতে ডুবে যায়। দিন দিন এ ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঐতিহ্যে, শিল্প বাণিজ্যে,অর্থনীতি সবকিছুতেই অনুকরণীয় এ নারায়ণগঞ্জ জেলা। উন্নয়নেও নাসিক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। অথচ এ সকল কিছুই ম্লান হয়ে পড়ছে ময়লা-আবর্জনার কাছে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে মাত্র ৪টি। অথচ নারায়ণগঞ্জে দৈনিক বর্জ্য আবর্জনা উৎপাদিত হচ্ছে ৪০০ টন। যার মধ্যে অপসারিত হচ্ছে ৩৫০ টন। বাকি ৫০ টন আবর্জনার কোথায় যাচ্ছে কি হচ্ছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি খোদ সিটি করপোরেশনের কাছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরের অলিগলিতে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তা পাশেই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছাড়া অনেক এলাকায়ই পৌঁছায় না সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণ সুবিধা। তেমনই একটি এলাকা দেওভোগ ভূঁইয়ারবাগ সংলগ্ন বোয়ালি খাল এলাকাটি। স্থানীয়দের অভিমত,কালেভদ্রে দুই একবার সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণের গাড়ী আসে। না হয় অধিকাংশ সময়ই এলাকাবাসীকে ময়লা ও এর দূর্গন্ধকে সঙ্গি করেই জীবনযাপন করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ‘ময়লার দূর্গন্ধে এখন বাড়িতে বসে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহ যাবৎ একই অবস্থা। দিন দিন দূর্গন্ধ বাড়ছে অসহনীয় অবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে। শুধু এ বেয়ালীখাল নয় সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় একই অবস্থা দেওভোগ মাদ্রাসা,পূর্বনগর, গলাচিপা, পালপাড়া,উকিল পাড়া, মন্ডলপাড়া,আমলাপাড়া, নবাব সিরাজদ্দৌলা সড়কসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা। তবে এ সকল সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলবে এমনটাই আশ্বাস দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এবারের বাজেটে এমনটাই উঠে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তথ্যানুসারে, নারায়ণগঞ্জ বর্জ্য সমস্যা সমাধানের জন্য বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে নাসিক। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে নিস্কাশনের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ৩৪৫ কোটি ৯১ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উক্ত প্রকল্পের বিপরীতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে ৩০৫ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণের লক্ষ্যে জালকুড়িতে ২৩.৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ কাজে ২৯৯ কোটি ১৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জেলা প্রশাসক বরাবর জমা প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে উক্ত ডাম্পিং সেন্টারের ভূমি উন্নয়ন,সীমানা প্রাচীর নির্মাণ,যানবাহন ক্রয় খাতে ব্যয় করা হবে। এছাড়া দৈনিক ৫০০ টন বর্জ্য হতে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে কবে এ সকল প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময়কাল নিয়ে আশ্বাস দিতে পারেনি নাসিক কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুতই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নাসিক। এদিকে নাসিকের এ সকল প্রকল্প কার্যকর করা হলে নারায়ণগঞ্জবাসী ময়লা আবর্জনা আর দূর্গন্ধের সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাইপাবে বলে আশাবাদী নাগরিক সমাজ। এখন কেবল অপেক্ষার পালা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *