শহর হকার মুক্ত হলেও ময়লা মুক্ত হয়নি!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহর হকার মুক্ত হলেও পঁচা বর্জ্য মুক্ত হয়নি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পঁচা বর্জ্য রেখে পুরো শহরময়কে দূর্গন্ধময় করে রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়কসহ অলিগলিতে পঁচা ময়লা রেখে পরিবেশকে দূষিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ময়লার ডাস্টবিন বানানো হয়েছে। এসব কারণে পথচারীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এমন অভিযোগ নগরবাসীকে। ভুক্তভোগীদের মতে, নাসিক তাদের কাছ থেকে টেক্স নিলেও সঠিক ভাবে শহরকে ময়লা মুক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বলেছেন, টেক্স নিলে শহর কেন বর্জ্যের কারণে দুগন্ধময় হয়ে থাকবে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নগরীকে ময়লা মুক্ত করতে হলে শুধু সিটি করপোরেশনই নয় নগরবাসীকেও আরো সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সুত্র জানায়, ১৩৯ বছরের পুরনো পৌরসভার এবং ৯বছরের সিটি করপোরেশনে নেই নিজস্ব কোনো ডাম্পিং পয়েন্ট। সাবেক পৌর আমলের নিজস্ব পঞ্চবটি ভাগাড়টিতে এখন শিশু পার্ক বানানো হচ্ছে। সিটি এলাকার ময়লা এখন লিংক রোডে সওজ-এর নালা ও ফাঁকা জমিতে ফেলা হচ্ছে। যদি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিলো তারা এডিবির আর্থিক সহায়তায় ৩৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে কিন্তু প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারছে না। নারায়ণগঞ্জের সাবেক তিনটি পৌরসভা এলাকা নিয়ে গঠিত এই নতুন সিটি কর্পোরেশনে প্রতিদিন নানা শ্রেণীতে প্রায় আড়াইশ’ টন আবর্জনা ও বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে ১৫০ টন পর্যন্ত অপসারণ করতে পারে। অবশিষ্ট আবর্জনার কয়েকটি এনজিও বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক কাজ করে সরিয়ে নেয়, এর পরিমাণ প্রায় ৪০ টন। এরপরও প্রায় ৬০ টন আবর্জনা ও বর্জ্য মানুষ অসচেতনার কারণে যেখানে-সেখানে বা ডোবানালা জলাশয়ে ফেলে দেয়। নগরের ময়লা আবর্জনা অপসারণে নারায়ণগঞ্জে আধুনিক পদ্ধতি নেই। একদিকে নগরবাসীর অসচেতনতা অন্যদিকে আধুনিক উপকরণের অভাব, নিজস্ব ডাম্পিং পয়েন্ট না থাকা ইত্যাদি সব কিছু মিলিয়ে ময়লা নিষ্কাশনের এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার কারণে দুর্গন্ধে লোকজনদের অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়। আর এতে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে সহায়ক হচ্ছে। পাশাপাশি জলাশয়গুলো ময়লা দিয়ে ভরাট করায় জলাবদ্ধতাও দেখা দিচ্ছে। নগরবাসী অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বললেও তা করা হচ্ছে না। ময়লা আবর্জনায় কীভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটছে এবং এর ফলে কি ক্ষতি হচ্ছে তা সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। সাধারণত গৃহ ও হোটেল রেস্তোরাঁয় দৈনন্দিন ময়লা আবর্জনা উৎপন্ন হয় প্রতিদিন। হোসিয়ারি, গার্মেন্ট, মেডিকেল, বাণিজ্য কেন্দ্রে নানা রকম আবর্জনার স্তূপ হয়। নারায়ণগঞ্জ শহরের ময়লা আবর্জনা সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুলের চেয়ে দ্বিগুণ। নাগরবাসীর মতে, নারায়ণগঞ্জে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা নেই। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ করার পরই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন জনসাধারণকে ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *