রাসেল বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলেও সহযোগিরা আবারো বেপরোয়া

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরস্থ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমি দস্যূ, ইভটিজিং, আন্তজেলা চুরি ডাকাতির সহিত সম্পৃক্ত ক্রস ফায়ারে নিহত রাসেল মাহমুদের পার্টনার সজীব, অপু, অর্পন, জসিম ও রবি বাহিনীর যন্ত্রণায় দ্রুত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা কামনা করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে সজীব ও অপু বাহিনীর পরিচালিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এলাকাবাসী বলেন, তালিকায় উল্লেখিত দুর্বত্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে ৩/৪টি করে মামলা এবং অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ গ্রেফতার করছে না। ফলে উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীরা দেদারসে মাদক ব্যবসা সহ নানা অসামাজিক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে। এলাকা সূত্রে আরো জানা যায়, বন্দরস্থ উত্তর লক্ষণখোলার বাসিন্দা ফয়েজ আহম্মেদের পুত্র রাসেল মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে টেকনাফে ক্রস ফায়ারে নিহত হওয়ার পরেও তারই ব্যবসায়ীক পার্টনার (১) মোঃ সজীব (২৮), পিতা- রেজাউল ওরফে রেজাই, সাং-উত্তর লক্ষণখোলা, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, (২) অপু সাউদ (২৭), পিতা- মৃত সেলিম সাউদ, (৩) মোঃ জসিম (৩৫), পিতা- হক বেপারী, (৪) অর্পন (২৭), পিতা- হবি, (৫) রবি (২৫), পিতা- ফুলচাঁন, সর্ব সাং- দক্ষিণ লক্ষণখোলা, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। এদের পরিচালিত বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জেলাব্যাপী মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতি ও নারী চরিত্রহরণ সহ সকল প্রকার অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। প্রকাশিত এদিকে সজীব, অপু, জসিম সহ সকলের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। এলাকা সূত্রে আরো জানা যায়, টেকনাফের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আমির হামজা নামক জনৈক ব্যক্তি সহ টেকনাফে বসবাসরত বেশ কয়েকজন নামি-দামী মাদক ব্যবসায়ীদের সহিত রয়েছে সজীব-অপু বাহিনীর সখ্যতা। সজীব ও অপু বাহিনী কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে নিজেরা ও তাদেরই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা আনা-নেওয়া করে থাকে। এই বাহিনীর মাধ্যমে সজীব ও অপু বাহিনী জেলা ব্যাপী মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালনা বিশেষ করে সোনারগাঁও, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও বন্দরস্থ ইস্পাহানী, লাঙ্গবন্দ, কাইকারটেক, ফনকুল, কলাগাছিয়া এলাকার বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ইয়াবা বেচা-কেনা করে থাকেন। জানা যায় গত ২৫ জুন ২০১৯ইং তারিখ সজীব-অপু সিন্ডিকেটের অন্যতম ৩ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী (১) রনি (৩৫), পিতা- নুর মোহাম্মদ, সাংÑ কেওঢালা, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, (২) আনিস (২৫), পিতা- জহিরুল, সাং- কালীগঞ্জ, থানা- সোনারগাঁ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, (৩) সৌরভ (২৫), পিতা- জহিরুল হক, সাং- উত্তর লক্ষণখোলা, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, প্রাইভেট কার রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্টো-গ-২৬৯৯৫৭ ও পালসার মটর সাইকেল কুমিল্লা-ল-১১২২৮৯ এর মাধ্যমে অবৈধ মাদক দ্রব্য ফেনসিডিল ও ইয়াবা বহনের সময় সোনারগাঁ পুলিশ গ্রেফতার করেন। সোনারগাঁ পুলিশ প্রাইভেট কার, হোন্ডা সহ ২ জনকে গ্রেফতার করিলেও সজীব-অপু বাহিনীর একান্তভাজন ৩নং আসামী সু-কৌশলে পালাইয়া যায়। যার সোনারগাঁও থানার মামলা নং- ৬১, তাং- ২৫/০৬/২০১৯ইং, ধারাঃ ২০১৮ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ৩(খ)/১০(ক)/৪১/৩৮। এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সজীব অপু বাহিনীর প্রায় ২৫/৩০ জনের সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা সহ নানা প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ডে এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করিয়া তুলিয়াছে। সচেতন এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি মহামারী আকারে ধারণ করেছে। ফলে মাননীয় পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং নি¤েœ মাদক ব্যবসায়ীর নাম ঠিকানা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সুবিধার্থে ২৩ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হলোঃ (১) সজীব (৩০), পিতা- রেজাউল ওরফে রেজাই, (২) সৌরভ (২৫), পিতা- জহিরুল হক, (৩) জহির (৩০), পিতা- মৃত মতলব মুহুরী, সর্বসাং- উত্তর লক্ষণখোলা, (৪) অপু সাউদ (২৯), পিতা- মৃত সেলিম সাউদ, (৫) জসিম (৩২), পিতা- হক বেপারী, (৬) অর্পন (২৭), পিতা- হবি, (৭) বাপ্পী (২৬), পিতা- মনির হোসেন, (৮) তৌহিদ (২৫), পিতা- মৃত বোরহান উদ্দিন, (৯) সুমিত (৩০), পিতা- মৃত হাইক্কা মিয়া, (১০) ইমরান (২৫), পিতা- এলেম মিয়া, (১১) নজরুল (৪০), পিতা- অছেক মিয়া, (১২) শাহাদাত (২২), পিতা- মৃত শাহাবুদ্দিন ওরফে কেছা, (১৩) সজীব (২৫), (১৪) সালাউদ্দিন (৩৫), (১৫) রবি (২৫), (১৬) সাইফুদ্দিন (৩০), সর্বপিতা- ফুলচান, (১৭) শিপলু (২৮), পিতা- সামাদ, (১৮) রওশন (৪০), পিতা- ইউসুফ, (১৯) টোকন (৩০), (২০) শাহালম, উভয় পিতা- কাদির, (২১) আউয়াল (৩০), পিতা- মালেক, (২২) রাসেল (৩৫), পিতা- গিয়াস উদ্দিন (বাগবাড়ী), সর্বসাং- দক্ষিণ লক্ষণখোলা, (২৩) সোহাগ (২৫), পিতা- আঃ হক, সাং- পাতাকাটা, সর্বথানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ প্রমুখ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *