আওয়ামী রাজনীতিতে পদ দখলের প্রতিযোগীতা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী-এমপিদের থানা কমিটির সভাপতি হওয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃনমূলের মতে, এভাবে মন্ত্রী-এমপিরা যদি থানা আওয়ামী লীগের পদ দখলে নেয় তা হলে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না। এ ক্ষেত্রে যারা দীর্ঘদিন ধরে তৃনমূলের রাজনীতি করে আসছে তারা রাজনীতি থেকে নিস্ক্রীয় হয়ে পরবে। রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন করে পদ দখলের প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। আর এই প্রতিযোগীতায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থাকেনি রূপগঞ্জ আসনের এমপি ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও আড়াইহাজার আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ থেকে উত্তরণে মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের পদ দখলে প্রতিযোগীতা বন্ধ করা প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মতে, যারা মাঠ পর্যায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছে তাদের মধ্যে পদের আকাঙ্খা থাকলেও দলের বেশ কিছু নেতার কারণে তারা প্রত্যিাশিত পদে আসতে পারছে না। দলের অনেক নেতা একাধিক পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছে। কিন্তু অনেক নেতাকর্মীরা পদ ছাড়াই দলের হয়ে রাজনীতি করে থাকলেও এসব একাধিক পদ ধারী নেতাদের কারণে তৃনমূলের নেতারা পদ পাচ্ছে না। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদকের পদ দখলে রেখে আবার জেলঅ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের পদও দখলে রেখেছেন। একই পথে হেটেছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদিরও। তিনিও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হয়েও জেলা যুবলীগের সভাপতির পদও ছাড়াছেন না। যে কারণে যোগ্য নেতা থাকলে তাদের দু’জনের কারণে জেলা যুবলীগে পদ পাচ্ছেনা অনেক নেতা। এ নিয়ে যুবলীগের রাজনীতিতে ক্ষোভ রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল, তিনি ১৫ বছর ধরে ফতুল্লা থানা যুবলীগের পদ দখলে রেখেছেন। যার ফলে ফতুল্লা থানায় যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে পারছে না যোগ্য নেতারা। সর্ব শেষ পদ দখলের প্রতিযোগীতায় নাম লিখিয়েছেন রূপগঞ্জ আসনের সাংসদ ও বস্ত্রীমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও আড়াইহাজার আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু। নেতাকর্মীরা বলেছেন, গাজী এবং বাবু কেন্দ্রীয় রাজনীতি করার কথা থাকলেও তারা থানা কমিটির সভাপতি পদ দখলে রাখা এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। নেতাকর্মীদের অভিযোগ মন্ত্রী, এমপি ও মেয়ররা যদি একাই একাধিক পদ দখলে রাখেন তা হলে তৃনমূলের নেতারা কোথায় যাবেন এবং কোন পরিচয়ে রাজনীতি করবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রী, এমপি কিংবা মেয়রদের একাধিক পদ আকড়ে থেকে রাজনৈতিক চর্চা এখনি বন্ধ করা প্রয়োজন। অন্যথায় তৃনমূলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *