আ’লীগের পরিচয়ে অপরাধীরা তৎপর

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের সুবিধাবাদি প্রভাবশালী নেতারা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত দুই দুই মাস আগেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে স্থানীয় আওয়ামীলীগের অনেক প্রভাশালী অনেক নেতাই আত্মগোপনে চলে গেলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসে আবারো বেশ দাপটের সাথে নিজেদের তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে ভাগবাটোয়ারি নিয়ে সংঘাত বেড়েই চলেছে। টেন্ডারবাজী, বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ঝুট সেক্টার নিয়ন্ত্রন, চাঁদাবাজী, জমি দখল, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়া নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরছে। বিশেষ করে ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অস্থায়ী পশুর হাট নিয়ন্ত্রন নিতে সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন। এরই মধ্যে অস্থায়ী পশুর হাট নিয়ন্ত্রন নিতে একাধিক সেন্ডিকেট তৈরী হয়েছে। সদর উপজেলা, রূপগঞ্জ আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্রোরেশনের আওয়াতাধীন পশুর হাটগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিতে একাধিক সেন্ডিকেট বেশ তৎপর রয়েছেন। তবে সিন্ডিকেটে আওয়ামীলীগ নেতাদের শেল্টারে থাকা বিভিন্ন অপরাধীরাই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গত ঈদ-উল-আযহায় সদর উপজেলার প্রতিটি হাটই ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রনে ছিল। এবারই সেই লক্ষ্যেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা এবারও বেশ তৎপর। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের হাট নিয়ে একাধিক সেন্ডিকেট তৈরী হয়েছে। মূলত ক্ষমতাসীন দলের নেতা অথবা নেতাদের আত্মীয় পরিচয়ে হাটগুলো নিয়ন্ত্রন করছে একটি মহল। আর এবার হাট নিয়ন্ত্রন নিয়ে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানাগেছে। জানাগেছে, আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বেশ কয়েক জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারী মাসে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাই ছিলেন নিশ্চুপ। এমনকি যে সকল নেতারা অর্থের বিনিময়ে সকল সমস্যা সমাধানের নিজস্ব যে কার্যালয় ছিল তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে আগের পরিস্থিততে তারা ফিরে এসেছেন। ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাবাদি নেতারা দলের পদ-পদবীর দাপটে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অভিযোগ, দলের সুবিদাবাদী নেতারাই নিজেদের পকেট ভারী করতে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরছেন। দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃনমূলের অনেক নেতাই নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। অভিযোগ উঠেছে, দলের সাংসদ কিংবা শীর্ষ নেতাদের নাম ব্যবহার করে সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রভাব বিস্তারের। এছাড়া ব্যানার ফেস্টুর ব্যবহার করে অনেকে নিজেকে নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টা করেই বিতর্কিত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতাদের নিরব সম্মতিতে কিছু দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সাঁড়ির নেতা বিতর্কে জড়িয়ে পরছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। আবার অনেক অপরাধী নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বেশ দাপটের সাথে দিন কাটাচ্ছেন। দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকতে যারা বিতর্কিত কর্মকান্ড জড়িয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটনায় দলের দুর্দিনে এসব নেতারাই দল কিংবা কর্মীদের কোন খবর রাখে না। ফলে এর খেসারত দিতে হচ্ছে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের। তবে এসব নেতাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে দলের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করনে দলের ত্যাগী নেতারা। এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না দিলে আগামী সাংগঠনিক ভাবে দল আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে স্থানীয় আওয়ামীলীতের কর্মীদের মতামত।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *