নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নাসরিন ওসমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে সেলিম ওসমান আজ দেশের মানুষ না খেয়ে থাকে না

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত অর্থায়নে ক্রয় করে দেওয়া জমির উপর নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। ভবনটি মিসেস নাসরিন ওসমানের নামে নামকরন করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারী মাস থেকে নতুন ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এমপি সেলিম ওসমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বন্দর নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। উক্ত স্কুলটি স্থানান্তরের জন্য এমপি সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ প্রদান করেন যা দিয়ে স্কুলের জন্য ৫৬ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য তাঁর সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান এবং তাঁর ছোট মেয়ে রোমানা শারমিন ১ কোটি টাকা করে ২ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এমপি সেলিম ওসমান তাঁর বাকী দুই মেয়ে অন্যান্য শারমিন ও অপর্না শারমিন আরো ২ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করবেন বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করেছেন। আজ দেশের মানুষ না খেয়ে থাকে না। দেশে এখন মানুষের টাকার অর্থনৈতিক অভাব নেই। এখন আমাদের রয়েছে শিক্ষার অভাব। আমি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কাজ করি। ৭টি ইউনিয়নে আধুনিক ৭টি স্কুল নির্মাণ করেছি। কিন্তু দেখা গেছে সেগুলো সঠিক ভাবে পরিচালনা করার মানুষ পাচ্ছি না। যারা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যায় দেখা গেছে তারা স্কুলের গন্ডিই পাড় হতে পারেনি। এভাবে কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তিনি আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশন স্কুলের জন্য অন্যত্র জায়গা দিতে চেয়েছেন। যেখানে পুরো এলাকাবাসীর মতামত সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। এখন স্কুল কর্তৃপক্ষ সেচ্ছায় এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। আর যদি সিটি কর্পোরেশন সেই জায়গা নিতে চায় তাহলে আমরা সিটি কর্পোরেশনের কাছে সেই জমি বিক্রি করবো। যদি কিনে না নেন তবে আমরা স্কুলের জায়গায় মার্কেট করে এর আয় দিয়ে স্কুল পরিচালনা করব। আমরা এ বিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে বিশ্ব বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করব। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নাগিনা জোহা স্কুলের ঘটে যাওয়া ঘটনাটির উদ্বৃতি টেনে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় আসল দোষী হচ্ছে ওই ছাত্রীটি। কিন্তু আমরা তোমাদেরকে সম্মান দেখিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। আমরা সকলে বিষয়টি তদন্ত করে পেয়েছি ছাত্রীটি শিক্ষকের কাছে এসএমএস করে ছিল পরীক্ষায় তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য। শিক্ষক ফিরতি এসএমএস এ লিখেছেন তোমাকে পাস করালে আমার কি লাভ? তখন ছাত্রী উত্তর দিয়েছে আপনি কি লাভ চান? শিক্ষকের পাল্টা উত্তর তিন তলায় কোনার রুমে দেখা করো। ওই দিন এক ছাত্র আরেক ছাত্রের (বন্ধু) মানিব্যাগ নিয়ে দৌড়ে তিন তলায় গেলে বিষয়টি তাদের নজরে পড়ে। এরপর যা ঘটেছে সেটা পত্রিকায় সবাই দেখেছ। তাই আমি বলবো তোমরাই পারো তোমাদের এলাকাকে শান্তিপূর্ণ রাখতে। আবার তোমরাই পারো এলাকার শান্তি বিনষ্ট করতে। তোমাকের কাছে অনুরোধ তোমরা যেমন এসব ঘটনার প্রতিবাদ করবে তেমনি নিজেরাই সাবধান থাকবে। আর তোমাদের মায়েদের বলবে যারা চোরাই গ্যাস দিয়ে রান্না করে খানা খায় তারা হারাম খায়। হারাম খাবার খেয়ে তোমার মেয়ে ভাল শিক্ষায় শিক্ষিত হবে কিভাবে। বন্দরে যেভাবে গ্যাসের অপচায় হয় সে গ্যাস দিয়ে ২শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব। উপজেলার সকল স্কুল পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা প্রতিটি স্কুল ভবনের ছাদে ছাদ কৃষি করার ব্যবস্থা করেন। আপনারা প্রয়োজনে আপনারা আমার কাছে প্রস্তাবনা পাঠাবেন আমি সেটা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করে দিবো। বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও স্কুলের সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সায়মা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, জেলা জাতীয়পার্টি আহবায়ক আবুল জাহের, ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা, মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদ, বন্দর ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান, ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দুলাল প্রধান, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও দোয়া করেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও গীতা পাঠ করেন নিতাই মজুমদার।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *