না’গঞ্জে ক্ষমতাসীনরাই দাপুটে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের একচেটিয়া আধিপত্যের পর উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীরা দাপুটের সাথে বিজয়ী হচ্ছেন। এসব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের বিপুল ভোটে পরাজিত করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিজয় মালা তুলে নিচ্ছেন। বিগত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনের ৩টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের শুধু পরাজিতই করেনি বরং অনেকেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাচনে চারটিতেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কোন কোন উপজেলায় বিরোধী দলের কোন প্রার্থী না থাকায় অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সদর উপজেলায় নির্বাচন হলে একই পরিনতি বরণ করতে হবে বিরোধী দলকে। শুধু সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ২টি আসন জাতীয়পার্টিকে ছেড়ে দিলেও উপজেলায় কোন আসন ছাড়েনি। সর্বশেষ কাঞ্চন পৌরসভায় বিএনপি সমর্থক প্রার্থীরা একই ভাবে পরাজয় বরণ করেছেন। ধারনা করা হচ্ছে আগামী ইউপি নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের এই দাপট অব্যাহত থাকবে। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপি এখন বিবৃতি সর্বস্ব এবং মাঝে মধ্যে ফটোশেসনের মধ্যে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখে চলেছেন। আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির কোন ভ’মিকা নাই বললেই চলে। ঐক্যফ্রন্ট বিগত নির্বাচনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও সংসদ নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর তাদের আর মাঠে দেখা যায়নি। এক কথায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের দাপট এখন এতটাই তুঙ্গে যে, তাদেরকে রাজনৈতিক মোকাবেলা করতে হচ্ছে নিজেদের দলেরই অন্য প্রতিপক্ষদের। নারায়ণগঞ্জে দলীয় কোন্দলের কারণে গণমাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা বার বার শিরোনাম হলেও সাধারণ মানুষের সমস্য নিয়ে তাদের যেন তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই। দলের পদ পদবী আর নিজেদের আখের গুছাতেই ব্যস্ত সবাই। এরই মধ্যে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে সাংসদরা দলীয় শীর্ষপদ দখল করার পর মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। বলা চলে নারায়ণগঞ্জে দলীয় প্রতিকে আওয়ামীলীগ দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করে যাচ্ছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে দলীয় প্রতিকে এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে আওয়ামীলীগের জয়জয়কার দেখা গেছে। সেই ধারাবাহিক জয়ের রেকর্ড সদ্য অনুষ্ঠিত রুপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনের জয়ের মধ্য দিয়ে ঠেকেছে। এতে করে আওয়ামীলীগের ধারাবাহিক জয়ের রেকর্ড এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জয়ের নৌকায় পাল তুলেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। সব মিলিয়ে রাজনীতিতে জয়ের বাতাস এখন তাদের অনুকুলে। যেকারণে তারা দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেই জয়ের ট্রফি ঘরে তুলছে। তাই কোন নির্বাচনের দলীয় নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পেলেই প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। এতে করে তাদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। আর সেই জয়ের রেকর্ড এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতিকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট। এর আগে উপজেলা নির্বাচনের ৫ম ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া বন্দর উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পেয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় লাভ করে। কোন ধরনের বাধা বিপত্তি ছাড়াই তিনি জয়ের নৌকা ভাসিয়ে দেন। এর আগে গত ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে জেলার তিনটি উপজেলায় প্রথম বারের মত দলীয় প্রতিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও প্রত্যেকই উপজেলা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করেছে। তবে শেষতক নৌকার জয়জয়কার দেখা গেছে। আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার বিপুলে ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। রূপগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলী লীগের নৌকা প্রতীকে মো. শাহ জাহান ভূইয়া বিশাল জয় পেয়েছেন। সোনারগাঁ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মো. মোশারফ হোসেন বিশাল জয় পেয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তারা সবাই বিপুলে ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি দুটো আসনেও আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হলে তারা জয় পায়। আওয়ামীলীগ ও সরকার সমর্থক জাতীয়পার্টি এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দাপুটে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *