গৃহপরিচারকা অন্তঃসত্ত্বায় কে দোষী জামাই নাকি শ্বশুর?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের আল্লামা ইকবাল রোডে কিশোরী গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় কারাবন্দি আছেন বাড়ির গৃহকর্তা সালাউদ্দিন। তবে, এই ঘটনাটি নিয়ে সৃষ্টি হয়ে ধুম্রজাল। উঠেছে নানা প্রশ্ন। বলা হচ্ছে, এ ঘটনায় পুলিশ প্রথমে সালাউদ্দিনের মেয়ের জামতাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও পরে তাকে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দিয়ে তারই শ্বশুরকে গ্রেফতার দেখায়। গত ২২ জুলাই ঘটনাটি প্রকাশ হলে শহরের ২৩/৪ আল্লামা ইকবাল রোড থেকে ফতুল্লা থানা পুলিশ প্রথমে এসএম সালাউদ্দিনের মেয়ের জামাই সজীবকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে রহস্যজনক কারণে সজীবকে ছেড়ে দিয়ে তার শ্বশুর বাড়িটির গৃহকর্তা সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে সালাউদ্দিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এরপর পরদিন ওই গৃহপরিচারিকাও ২২ ধারায় ঘটনার বর্ণনা জানিয়ে জবানবন্দি প্রদান করে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকাজুড়েই নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে। গ্রেফতার সালাউদ্দিনের স্ত্রীও বিশ্বাস করতে চাচ্ছেন না গৃহপরিচারিকার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পিছনে তার স্বামী দায়ী। তাই তিনি গৃহপরিচারিকার গর্ভের সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করানোর দাবি তুলেছেন সালাউদ্দিনের স্ত্রী। সেটি করা করা হলেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অপরদিকে এলাকাবাসীর অভিমত, গৃহপরিচারিকা অন্তঃসত্ত্বার পেছনে সালাউদ্দিনের মেয়ের জামাই সজীবের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। শুরুতে এমন কথাই উঠেছিলো। পুলিশও তাকেই আটক করেছিলো প্রথম। কিন্তু পরে কী মনে করে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়ে শ্বশুর সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে তা রহস্যজনক বলেই মনে হচ্ছে। এই রহস্য দূর করার জন্য ডিএনএ টেস্ট করা জরুরী এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে গ্রেফতার সালাউদ্দিনের পারিবারিক সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তারা মনে করেন, গৃহপরিচারিকার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সাথে তার সম্পৃক্ততা না থাকার সম্ভাবনাটাই বেশি। তারপরও তিনি ভিন্ন কোনো কারণে অথবা মেয়ের সংসার রক্ষার্থে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে থাকতে পারেন। তাই এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়াটা জরুরী বলে তারাও মনে করেন। এদিকে গৃহপরিচারিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সাথে কার সম্পৃক্ততা রয়েছে এ নিয়ে পুলিশও তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ মো. আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা ডিএনএ টেস্টের ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়েছি। এ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে তার জট খোলার জন্যই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। শিগগিরই এই রহস্য উন্মেচিত হবে।” অপরতিকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহপরিচারিকা কিশোরীর সাথে গ্রেফতার সালাউদ্দিনের বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন তারই মেয়ে শুভ। গত ২৪ জুলাই ভুক্তভোগি কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিতে গেলে এদিন কিশোরীর বাবা-মা’র সাথে শুভকে আদালত পাড়া ঘুরতে দেখা গেছে। গ্রেফতার সালাউদ্দিন ২৩/৪ আল্লামা ইকবাল রোডের মৃত শেখ ফজর আলীর ছেলে। তার ৬ তলা বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকেন মেয়ে ও মেয়ের জামাই। এখানেই গৃহপরিচারিকা হিসেবে তিন বছর আগে রংপুরের কুড়িগ্রাম থেকে কাজে যোগ দেয় ওই কিশোরী। বর্তমানে ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে ডাক্তার।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *