পল্টিবাজদের দাপটে ত্যাগী নেতারা বিপাকে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রাজনীতিতে বিএনপির ক্রান্তি সময় চলছে। একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে থাকার নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হওয়ার পরশাপাশি সাহসী নেতার সঙ্কটের কারণে রাজপথে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। যারফলে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যেসকল সহসী নেতা রাজপথে কর্মীদের চাঙ্গা করতে কাজ করছেন তাদেরই কোনঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির পদধারী বেশ কয়েকজন নেতা। যারা ক্ষমাসীনদলের সাথে আতাঁত করাসহ নিজের বলয়কে শক্তিশালী করতে সহসী নেতাদের কোনঠাসায় ফেলছেন। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে পল্টিবাজ নেতাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই বলছে। নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করতে পল্টিবাজরা ভোলপাল্টে ফেলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এতে করে কর্মীরাও এখন বিরক্ত। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে পল্টিবাজ নেতাদের কারণে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে আতাঁত করে রাজনীতি করছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা।একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অবস্থান শক্ত করতে যারা সক্রিয় ছিলেন তারাও এখন অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছেন। কর্মীরাদের রাজপথে সক্রিয় করতে যে সকল সাসহী নেতারা রাজপথে ছিলেন তারা এখন বেকায়দায় রয়েছেন সুবিধাবাদির দাপটের কারণে। জানাগেছে, বিএনপির পদে থেকেও ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁত করার তালিকায় রয়েছেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাশেম শকু, দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুসহ বেশ কয়েজন নেতা। এছাড়াও নিজেদের বলয়কে শক্তিশালী করতে দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদসহ বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। আর রাজপথে সক্রিয় থাকায় অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের একজন পরীক্ষিত নেতা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনিই নেতাকর্মীদের রাজপথে চাঙ্গা করতে নানা উদ্যোগ নেন। যার ফলে তিনি শত বাঁধা বিঘœ উপক্ষো করে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে থাকেন। তাছাড়াও সভাপতি সেক্রেটারীর কর্মসূচির প্রায় কয়েকগুণ বেশী নেতাকর্মী নিয়ে রাজপথে শোডাউন করেন সাখাওয়াত, সাখাওয়াতের ডাকে যে কোন কর্মসূচি লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। তাই সাখাওয়াত প্যারালাল কর্মসূচি পালন করছে বলে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের কাছে অভিযোগ করছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এতে করে অনেকটা নিশ্চুপ হয়ে পড়েন সাখাওয়াতের অনুসারিরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *