এগিয়ে যাচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগ পিছিয়ে পড়েছে মহানগর!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সাংগঠনিক ভাবে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। দীর্ঘদিন পর থানা আওয়ামীলীগের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে কাজ করছেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা। অচিরেই ফতুল্লা, বন্দর ও সদর আওয়ামীলীগের কমিটিও পুনর্গগঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। অপরদিকে, নিজেদের কমিটির মেয়ার উত্তীর্ণ হলেও এখনো পর্যন্ত মহানগর আওয়ামীলীগের আওয়াতাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেনি। এমনকি বিগত সময় আওয়ামীলীগের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচীতেও সফলতা দেখাতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগ। তবে মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার পর প্রথমবারের মত সম্প্রতি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ব্যাপক ভাবে শো-ডাউন করেছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ। জানাগেছে, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আব্দুল হাইকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেযর সেলিনা হায়াত আইভীসে সহ-সভাপতি ও আবু হাসনাত শহিদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্র। আংশিক কমিটির ঘোষনার ১৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিপির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার পর পরই নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল জেলা আওয়ামীলীগ। তাই থানা কমিটিগুলোও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগ। তবে সম্প্রতি জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা একাট্টা হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা। যদিও এখনো নেতায় নেতায় বিভাজন রয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিক গতি ফিরেয়ে আনতে বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় থানা আওয়ামীলীগের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করার উদ্যোগের চিত্র দেখে। যদিও রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার আওয়ামীলীগের সভাপতি পদটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী ও নজরুল ইসলাম বাবু সভাপতি পদটি বাগিয়ে নেয়ায় মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ঘোষনা করা হয় আনোয়ার হোসেনকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় এড. খোকন সাহাকে। আর ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণা কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার দির্দেশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে সাত দিনে কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারেনি। তাই দুই বছর তিন মাস পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয কেন্দ্র। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার পর থেকে সাংগঠনিক ভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগ। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা সাংসদ শামীম ওসমান ও মেযর সেলিনা হায়াত আইভীর মধ্যে থানা দ্বন্দ্বকে চাঙ্গা রেখে মহানগর আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা নানা ভাবে ফায়দা লুটেছেন। শামীম-আইভীর দ্বন্দ্বকে কাজে লাগেয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরির্বতন করেছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে কমিটিতে পদ দখল করা অনেক নেতাই বর্তমানে কর্মীবিহীন। তাই রাজপথে নিজেদের শক্তির জানান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে মহানগর আওয়ামীলীগ। তাই অচিরেই মহানগর আওয়ামীলীরে কমিটি পুনর্গঠনের দাবী জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গুঞ্জন উঠেছেল মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। তবে সেই গুঞ্জন বাস্তব রূপ নিতে পারেনি। তবে বর্তমানে সেই গুঞ্জনের বাস্তপ রূপ চেয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *