পকেট ভারী করতে পদধারী নেতারা ব্যস্ত

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামীলীগ সরকার। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেকেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তারপরও তারা এখনো নিজেদের পকেট আরো ভারী ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। জেলা, মাহানগর, থানা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও রাজনীতিতে এখন ব্যবসা হিসেবে পরিনত করেছেন। ব্যবসায়ীক ফায়দা ফুলছেন তারা। অনেকের আবার মুসকিল আছান সেন্টার ( যে কোন সমস্যা অর্থের বিনিময়ে সমাধাণ করতে নিজস্ব কার্যালয়) চালু করেছেন। আর মুসকিল আছান সেন্টারে বসে বসেই নিজের পকেট ভারী করছেন। জানাগেছে, আওয়ামীলীগ সরকার তৃতীয় বারের মত ক্ষমতায় আসার পর অনেক নেতাদের মধ্যে চলে এসেছে ক্ষমতার অহমিকা। কর্মীদের বিপদে ফেলে নেতারা নিজের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আর এজন্য কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নেতারা নিজেদের পকেট ভারী হলেও কর্মীদের দুর্দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নেতাদের সাথে কর্মীদের দূরত্ব ক্রমশই বেড়ে চলছে। দলীয় কর্মসূচিতেও কর্মীদের অংশ গ্রহন কমে গেছে। আগের ন্যায় দলীয় কর্মকান্ডে কর্মীদের অংশ গ্রহন করতে দেখা যাচ্ছে না। কর্মীদের দাবি, দলের নাম ব্যবহার করে দলের পদধারী নেতারা নানা ভাবে লাভবান হলেও কর্মীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। এছাড়া নেতাদের মধ্যে পদের দীর্ঘসূতিকার কারণে অনেকটা অহমিকা কাজ করছে। ফলে নেতাদের সাথে কর্মীদেরও দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। দলের তৃনমূলের দাবি, মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে শুরু অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটির মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে অনেক আগেই। তবে সম্প্রতি জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছে কেন্দ্র। অন্যান্য কমিটিগুলো পুনর্গঠন না হওয়ায় দলের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। এ কারণে কর্মীদের মূল্যায়ন কমে গেছে। রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মতে, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি অল্প কিছু নেতার কাছে জিম্মী হয়ে পরেছে। তাদের একঘেয়ামীর কারণেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না। তবে এ থেকে উত্তরনের জন্য জেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিটিগুলো নতুন করে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রাণ ফিরে আসবে না। অভিযোগ রয়েচে, আওয়ামীলীগের সুবিধাবাদি নেতাদের কারণে নারায়ণগঞ্জে দিনে দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রাণহীন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই নেতৃত্ব থাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। কর্মীদের অভিযোগ পদধারী নেতাদেও কারণেই আওয়ামী লীগের এ অবস্থা হয়েছে। পদে থাকা নেতারা নিজেদের স্বার্থে নতুন করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদধারী নেতাদের পদ চলে গেলে দলের ভেতরে তাদের অধিপত্য ক্ষুন্ন হবে এ কারণে নতুন করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তারা পর্দার আড়ালে বসে কলকাঠি নাড়ছে। জেলা যুবলীগের নেতারা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও এখনো যুবলীগের পদ আকড়ে রেখেছেন। মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নেতারা বেশ দাপটের সাথেই রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিভাজনের নেপথ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতা দায়ী। তারা নিজেদের পকেট ভারী করতে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে রেখেছে। তাই পকেট ভালি করা নেতাদের বাদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে ঢেলে সাঁজানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *