পশুর হাট নিয়ন্ত্রনে ক্ষমতাসীনদের দাপট

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ১৭টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী দরদাতাদের গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সিডিউল ক্রয় করার আহবান জানানো হয়েছে। কিন্তু নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও মূলত সদর উপজেলার ১৭টি হাটই ক্ষমতাসীনদের দখলে চলে গিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অনেকেই সিডিউল ক্রয় করতে গেলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা থেকে বলা হচ্ছে উপরের নির্দেশ। যাকে তাকে সিডিউল দেয়া হবে না। এখনো হাটের ইজারা না হলেও ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তিতে থানা নির্ধারিত স্থানগুলোতে গুরু আসতে শুরু করেছে। মূলত ক্ষমাসীন দলের নেতারা সিন্ডিকেট করে হাটগুলো নিয়ন্ত্রনির চেষ্টা করছেন। যার ফলে সরকার বিপুল অংকের টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানাগেছে, ইতিমধ্যে হাটগুলোতে কোরবানীর পশু উঠতে শুরু করেছে। অথচ এখনো হাটগুলোর ইজারাই সম্পূর্ণ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেটের মধ্যমে নামমাত্র মূল্যে হাটগুলো ইজারা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সদর উপজেলা। ১৭ টি অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য দরপত্রের বিজ্ঞপ্তির তালিকায় ১২ নং এ কাশিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন খালি মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্রের আহবান করা হয়। অথচ এই মাঠটি সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন রেখে কাশিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন খালি মাঠ বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। যদিও বিদ্যালয়টি ভূমি অফিসের সাথেই রয়েছে। গত বছরও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে নামমাত্র অর্থে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয়েছিল। আর গরুর বেপারীরা ঐ বিদ্যালয়েই থাকতেন। হাট শেষ হওয়ার পর বিদ্যালয়ে নোংরা পরিবেশ ছিল বেশ কয়েক সপ্তাহ। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও স্কুল এবং খেলার মাঠ এবং মূল সড়কের মধ্যে পশুর হাটের টেন্ডার আহ্বান করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়াও আলীগঞ্জ খেলার মাঠের পাশে পিআইডব্লি’র জায়গায় হাট ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান নিয়ে স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, দর উপজেলা ১৭টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটটি পুরোপুরি ভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কাউকে সিডিউল ক্রয় করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি উপজেলা কর্তৃপক্ষও দির্দেশনা ছাড়া কারো কাছে বিক্রিও করছেন না। এদিকে, সিডিউল বিক্রি নিয়ে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। কেননা সিডিউল বাধার কারণে প্রতিপক্ষরাও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এমনটা হলে সিডিউল ক্রয় করা নিয়ে বড় ধরণের সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। এব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্তকর্তা নাহিদা বারিকের সাথে যোগাযোগ করতে তার সরকারি নাম্বারে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *