নিতাইগঞ্জে লোড-আনলোড নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ কয়েকটি বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ২০০ বছরের পুরোনো নিতাইগঞ্জ বাজার। পাইকারি বাজারের মধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার মৌলভীবাজারের পরই অবন্থান এই নিতাইগঞ্জের। দেশ বিদেশ থেকে আমদানী করা চাল, ডাল, তেল এবং গমসহ বেশকিছু খাদ্যপণ্যের কাঁচামাল এখানকার বিভিন্ন আড়ৎ এবং মিলে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিক্রি করা হয় সারা দেশের পাইকারি বাজার ও খুচরা দোকানীদের কাছে। তবে এসব পণ্য দিনদুপুরে রাস্তায় ট্রাক দিয়ে লোড-আনলোড (উঠানো ও নামানো) করায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। নগরভবনের সামনে এভাবে লোড-আনলোডে গেলো বছর নিষিদ্ধ করা হলেও আবারও তা চলছে পুরোদমে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দেয়া তথ্য মতে, নিতাইগঞ্জ এলাকায় ট্রাক লোড আনলোডের সময় সৃষ্ট যানজট বিষয়টি সমাধানের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক এর সাথে সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, দেড় টনের ট্রাক মন্ডলপাড়া ও নিতাইগঞ্জ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। এবং রাত ৮ টা হতে সকাল ৮ টা পর্যন্ত মালামল আনলোড করতে হবে এবং সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মালামাল লোড করতে হবে। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনে, পাশাপাশি দুইটি ট্রাক থামিয়ে পণ্য আনলোড করা হচ্ছে। আর এতে মূল সড়কের জায়গা সংকুচিত হওয়ায়, অস্বাভাবিকভাবেই সেখানে থেমে থেমে চলছে রিক্স্রা, প্রাইভেটকার ও সিএনজিসহ অধিকাংশ যানবাহন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আবুল হোসেন বলেন, এই ট্রাকগুলোর কারণে এখানে রিক্সার মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট বসে ছিলাম! দিনের বেলা যদি রাস্তায় এভাবে ট্রাক রাখা হয় তাহলে সাধারণ মানুষতো বিপদে পড়বেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি ট্রাকের চালকরা বলেন, এগুলো বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মাল। তাঁরা আমাদের বলে দিয়েছে তাই আমরা দিনেই এগুলো লোড-আনলোড করি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি শিকার করে নিতাইগঞ্জ আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং নিউকি ফ্লাওয়ার মিলের মালিক আব্দুল মতিন বলেন, দিনে লোডিং হয় কিন্তু খুব কম। হয়তো দুই থেকে তিনটি গাড়িতে লোডিং আনলোডিং করা হয়। যেসব ট্রাকগুলো থাকে সেগুলো স্ট্যান্ডের। এছাড়া, নিতাইগঞ্জ চার রাস্তার মোড় থেকে সিটি করপোরেশনের গেইট পর্যন্তও দেখা যায়; সারিবদ্ধ ভাবে রাস্তার দুই বেশ কয়েকটি ট্রাকের স্ট্যান্ড তৈরী করে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা এবং রাস্তার মধ্যে ট্রাক থামিয়ে ইচ্ছে মতো চাঁদা তুলছে ট্রাক কার্ভাটভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নে কর্মচারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাক চালক বলেন, এরা সব সময়তেই রাস্তার মধ্যে গাড়ি থামিয়ে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলে। না দিলে গাড়ি আটকে রাখে! বিষয়টি শিকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, আসলে আমরা আমাদের লাইনম্যানদের বেতন দিতে পারিনা। তাই ২০ টাকা করে একটা চাঁদা তোলা হয় কিন্তু এর বেশি না। আরা রাস্তার পশে যেই ট্রাকগুলো থাকে (স্ট্যান্ড) এগুলো এই এলাকার কিছু প্রভাবশালী স্থানীয় লোকজনের। আমাদের না।কিন্তু তিনিই আবার জানান, আমাদের তো সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছিলো, জিমখানা অথবা এর আশেপাশে একটি জায়গা করে দিবে ট্রাক রাখার জন্য কিন্তু এখনো তা করে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এএফএম এহতেশামূল হক বলেন, ‘পণ্য লোড আনলোডের জন্য তো পঞ্চবটিতে একটি স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা সিটি করপোরেশন করছে। কিন্তু যারা বলে নিতাইগঞ্জ এবং এর আশেপাশে ব্যবস্থা করা হবে সেটা সত্য নয়। এটি পুরোটাই মিথ্যা কথা।’

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *