ছাত্রলীগের থানা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের দাবী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বছরের পর বছর পাড় হয়ে গেলেও ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর থানা ছাত্রলীগের কমিটির পুনর্গঠন না হওয়ায় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। ছাত্র থেকে যুবক অত:পর বৃদ্ধা হওয়ার পথে এমন ব্যক্তিরা ছাত্রলীগের পদ দখল করে রেখেছেন। এতে করে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকায় ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। যদিও সম্প্রতি জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণঅঙ্গ কমিটিতে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের অনেকেই পদ পেয়েছেন। জানাগেছে, কয়েক বছর পর পর জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা হলেও দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে আটকে ছিল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের অধিনে থাকা থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো। ফলে এসকল থানা ও ওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল অনেক আদুভাই। আর তাদের কর্মকান্ডে বিতর্কিত হচ্ছিল নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর পর এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটিও বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। সেই সূত্র ধরে এবার নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ থেকে আদুভাইদের বিদায়ের সুর বেজে উঠছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগও আদুভাইয়ের কলঙ্কমুক্ত হতে যাচ্ছে। সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশরাফুল ইসমাইল রাফেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আজিজ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাফেল জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদে ছিলেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আাহবায়ক পদে থাকা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে থাকা হাসনাত রহমান বিন্দুকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এদিকে এই কমিটি গঠনের প্রায় ১৪ মাস পর গত ২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ওই কমিটির অনুমোদন দেন। এর মধ্যে জেলা কমিটি করা হয়েছে ১৮৮ জনের এবং মহানগর কমিটি গঠন করা হয়েছে ১৬১ জনের। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জেলা ও মাহনগর ছাত্রলীগের অধিনে থাকা থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও নতুন কমিটি আসছে। জানা যায়, ২০০৩ সাল ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু ও সাধারণ সম্পাদক জি এম আরাফাত। পরবর্তীতে ২০১১ সালের জুন মাসে সাফায়েত আলম সানিকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি থানা ছাড়া বাকীগুলোর নতুন কমিটি দিতে পারেন নি। ২০১১ সালের ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটির নেতারা রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে সমর্থ হলেও তারা ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে এখনও নিপু-আরাফাতের কমিটির নেতারাই আসীন রয়েছেন। আড়াইহাজার থানা ছাত্রলীগের কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ঘোষণা করা হলেও সেখানে জেলা ছাত্রলীগের কোন প্রাধান্য ছিলনা। এমনকি ওইসময়ে আড়াইহাজার থানা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উপস্থিত থাকতেও দেখা যায়নি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দানকারী আবু মুহাম্মদ শরীফুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দানকারী আব্দুল মান্নান দু’জনেই চল্লিশোর্ধ। দীর্ঘদিন ধরে থানা ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকায় এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগে তারা অভিযুক্ত হয়ে থাকেন। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক বর্তমান কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন অনেক আগেই। তারপরেও তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের পদ আকঁড়ে রেখেছেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়ভাবে শাহজালালের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে প্রায় সময় নিজ দলের নেতাকর্মীদের দ্বদ্বে জড়িয়ে যান। সেই সাথে রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী সহ বিভিন্ন অভিযোগ। অন্যদিকে বন্দর থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আব্দুস সালাম ও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দানকারী খান মাসুদের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। আব্দুস সালাম মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে তেমন একটা অভিযোগ না থাকলেও খান মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা হারালেও তিনি ছাত্রলীগের পরিচয় বহন করে বন্দর থানা এলাকায় অবাধে টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *