কর্মীদের সাথে নেতাদের দূরত্ব বাড়ছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। আর এই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাবস্থায়ও রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন ঝামেলা কিংবা হয়রানীর মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন মামলারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকাবস্থায়ও তাদেরকে কিছুটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিন অতিবাহিত করতে হয়েছে। তারই ধারাবাহিকায় এবারও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দু:সমেয়র মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই দু:সময়েও এগিয়ে আসছেন না নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। বরাবরের মতো এবারও তারা নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে এলাকাবাসীর গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী নিহত সিরাজ এবং একই দিন মানসিক প্রতিবন্ধী গুরুতর আহত হওয়ায় ঘটনায় দুটি মামলার আসামীর তালিকাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী অনেকের নামও আছে। ওই মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করেছে পুলিশ। সিরাজকে গণপিটুনীতে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সাখাওয়াত বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আর এই মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মীরা পুলিশের ভয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে যান। ক্ষমতায় থেকেও তাদেরকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন কাটাতে হয়। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও শামীম ওসমান এবং প্রভাবশালী নেত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কিন্তু এতে কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বরাবরের মতো এবারও নিরব ভূমিকায় থেকে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যডভোকেট খোকন সাহা। যদিও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন রয়েছে। সে হিসেবে তাদেরই উপরই দায়িত্ব বর্তায়। তারপরেও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও প্রতিক্রিয়া কিংবা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর হোসেন মীরুর বিরুদ্ধে মামলা, ক্রীড়া সংগঠক তানভীর আহমেদ টিটু যিনি এমপি শামীম ওসমানের শ্যালক তার বিরুদ্ধে মদ বিয়ারের ঘটনায় জড়ানো, শহরে পুলিশের মহড়ার পর যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কিছুটা চাপা আতংকে ছিলেন তখনও নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন শামীম ওসমান। সেই সাথে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভও বিরাজ করছিল। কিন্তু এতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা হিসেবে প্রতিক্রিয়া দেখান নি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও গত বছরের ২৭ জানুয়ারী হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় করা অভিযোগ (মামলা) করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পাশাপাশি শামীম ওসমানের সাথেও বিরোধ নতুন করে দেখা দেয়। কিন্তু এতেও কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যডভোকেট খোকন সাহা। সেই সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করে মামলা প্রত্যাহারেও কোন ভূমিকা রাখেন নি তারা। এভাবে প্রায় সব সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে থাকা নেতাদের কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও তারা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তলনের জন্য অভিভাবকত্ব ফলাতে পারছেন না। বরবারের মতোই নিরব থেকে যান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *